কায়রোতে আরব পরিবেশ ফোরামে সৌদির টেকসই চারণভূমি অভিজ্ঞতা উপস্থাপন
কায়রোতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরব পরিবেশ ফোরামে সৌদি আরব তাদের চারণভূমি টেকসইকরণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরেছে।
মূল বিষয়
AIকায়রোতে আরব লীগের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরব পরিবেশ ফোরামে সৌদি আরব, পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্বে অংশ নিয়েছে। এবারের ফোরামের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চারণভূমির টেকসইতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি’, যা পরিবেশ বিষয়ক আরব মন্ত্রীদের ৩৭তম বৈঠনের আগেই অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ বিষয়ক উপ-মন্ত্রী ড. ওসামা ফাকিহা উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, সৌদি আরব ভূমি অবক্ষয় রোধ ও পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দিয়েছে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘মিডল ইস্ট গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’, জি-২০ এবং জাতিসংঘের মরুকরণবিরোধী কনভেনশনের ১৬তম সম্মেলন সভাপতিত্বের মাধ্যমে চারণভূমি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, সৌদি আরবে ২,০০০-র বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে, যার বড় অংশ চারণভূমিতে বিস্তৃত এবং দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৭০% জুড়ে রয়েছে। এসব চারণভূমি মাটি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা, ভূগর্ভস্থ পানি পুনরায় পূরণ এবং ধুলিঝড় কমাতে সহায়ক। তবে অতিরিক্ত ও অকাল চারণ পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব জাতীয় চারণভূমি কৌশল গ্রহণ করেছে, যা জাতীয় পরিবেশ কৌশলের আওতায় একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা। এতে দুটি সমান্তরাল ধারা রয়েছে: একটি পরিবেশগত, যেখানে সংরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ, বীজ ছিটানো ও চারণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চারণভূমির উদ্ভিদ আচ্ছাদন রক্ষা ও উন্নয়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১২ লাখ হেক্টর পুনর্বাসন হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ লাখ হেক্টর পুনর্বাসনের লক্ষ্য রয়েছে ‘সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায়। অন্যটি পশুসম্পদ উন্নয়ন, যেখানে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, পশু চিকিৎসা ও চারণভূমি সম্প্রদায়ের জন্য পরামর্শ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এতে পশু উৎপাদন দক্ষতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক আয় বাড়ছে। এই দুটি ধারা একসঙ্গে ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যাতে চারণভূমির টেকসই উদ্ভিদ আচ্ছাদন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও চারণভূমি সম্প্রদায়ের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
