জেদ্দায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন যুবরাজ, ১৫টি সিদ্ধান্ত
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বৈঠকে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূল বিষয়
AIজেদ্দায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।
বৈঠকের শুরুতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার বিষয়বস্তু মন্ত্রিসভাকে জানান। এতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং সৌদি আরব উত্তেজনা কমাতে সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া, যুবরাজ বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারাআ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সারাংশও মন্ত্রিসভাকে জানান। এসব আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আগ্রহের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ আল বুনাইয়ান জানান, সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও অংশগ্রহণ বাড়ায় মন্ত্রিসভা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক নৌপথ, বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ রক্ষায় যৌথ কাঠামো গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, বিশেষত লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালী ও আদেন উপসাগরে।
মন্ত্রিসভা আশা প্রকাশ করেছে, গাজা উপত্যকায় নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা করবে, যা শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার দেবে। এ ক্ষেত্রে মিশর, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও শান্তি পরিষদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয়।
আগামী এপ্রিল মাসে রিয়াদে পঞ্চম আন্তর্জাতিক মানবিক ফোরাম আয়োজনের মাধ্যমে সৌদি আরব তার মানবিক ও ত্রাণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়। এই ফোরাম আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও টেকসই কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে এবং বিশ্বজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি ও কৌশলগত অগ্রগতির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে, হাজিদের সেবার জন্য গৃহীত কর্মসূচির সফলতা ও অব্যাহত উন্নয়নের প্রশংসা করা হয়। এতে দুই পবিত্র মসজিদের প্রতি সৌদি নেতৃত্বের ঐতিহাসিক যত্ন ও হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চতুর্থ অনুচ্ছেদ বিষয়ক পরামর্শ প্রতিবেদন নিয়ে মন্ত্রিসভা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এতে সৌদি অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা, বৈচিত্র্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আর্থিক ও মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা এবং ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় গৃহীত কাঠামোগত সংস্কারের প্রশংসা করা হয়, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছে।
এরপর মন্ত্রিসভা এজেন্ডাভুক্ত বিভিন্ন বিষয়, শুরা কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ ও সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করে:
প্রথমত:
সৌদি আরব ও ইকুয়েডরের মধ্যে সাধারণ সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন।
দ্বিতীয়ত:
সৌদি আরব ও কাজাখস্তানের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উৎসাহিতকরণ চুক্তি অনুমোদন।
তৃতীয়ত:
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও স্পেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ে সমঝোতা স্মারক অনুমোদন।
চতুর্থত:
সৌদি আরবের পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সোমালিয়ার সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নৌপরিবহন বিষয়ে সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন।
পঞ্চমত:
প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ বিষয়ে কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা ও স্বাক্ষরের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অনুমতি প্রদান।
ষষ্ঠত:
সৌদি ও তুরস্কের মহাকাশ সংস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণ মহাকাশ গবেষণা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক অনুমোদন।
সপ্তমত:
সরকারি প্রতিযোগিতা ও ক্রয়বিষয়ক নতুন আইন অনুমোদন।
অষ্টমত:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ও নৈতিকতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের মৌলিক আইন অনুমোদন।
নবমত:
উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত জমি উন্নয়ন ও আবাসিক ইউনিট নির্মাণের অনুমতি, বিনিময়ে জমির একটি অংশের মালিকানা।
দশমত:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল সার্ভিস বিভাগকে আন্তর্জাতিক হাসপাতাল ফেডারেশনে যুক্ত হওয়ার অনুমোদন।
একাদশত:
বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে সীমান্ত অতিক্রমকারী আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি।
দ্বাদশত:
অবৈধ সম্পত্তি লেনদেন সংশোধনের সময়সীমা এক বছর বাড়ানো।
ত্রয়োদশত:
হাইল, তাইবা, কাসিম ও জউফ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের বছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুমোদন।
চতুর্দশত:
সৌদি স্বীকৃতি কেন্দ্র ও মজমা ও আল-বাাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনসহ এজেন্ডাভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ।
পঞ্চদশত:
চতুর্দশ গ্রেডে তিনজন কর্মকর্তার পদোন্নতি অনুমোদন: বাসাম আল-আমার (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন উপদেষ্টা), ড. খালেদ আবু হাতলা (তথ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসা উপদেষ্টা), খালেদ আল-শেইখ (মন্ত্রিসভার সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা)।
