সেনা ও নিরাপত্তা খাতে খাবার সরবরাহে নতুন কঠোর নীতিমালা
সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয় সেনা ও নিরাপত্তা খাতে খাবার সরবরাহে নতুন নীতিমালা জারি করেছে, যা ৫ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এতে খাদ্য ও নিরাপত্তা মান, কঠোর তদারকি এবং স্বাস্থ্যবিধি জোরদার করা হয়েছে।
মূল বিষয়
AIসৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয় সেনা ও নিরাপত্তা খাতে খাবার সরবরাহের জন্য চুক্তি, ক্রয় ও পরিমাণ নির্ধারণে নতুন নীতিমালা অনুমোদন করেছে। অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান অনুমোদিত এই সিদ্ধান্তটি সরকারি গেজেট 'উম আল-কুরা'য় প্রকাশিত হয়েছে এবং ৫ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
এই নীতিমালার লক্ষ্য হচ্ছে উপকারভোগীদের জন্য পুষ্টিমান উন্নত করা, খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের মান বাড়ানো, বিভিন্ন সংস্থার জন্য শর্ত ও ক্রয় প্রক্রিয়া একীভূত করা, প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বাধ্যতামূলক প্রয়োগ ও কড়া তদারকি
নীতিমালাটি সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক। এতে খাবার সরবরাহ চুক্তি আহ্বান ও বাস্তবায়নের শর্তাবলি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। খরচ দক্ষতা কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে এই নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করবে, সামরিক ও নিরাপত্তা খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে।
নীতিমালায় খাবার সরবরাহ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে: স্থায়ী ইউনিট, কেন্দ্র, কলেজ ও ইনস্টিটিউটের জন্য রান্না করা খাবার; যুদ্ধজাহাজ, অভিযান ও মহড়ার জন্য রান্না না করা খাবার; এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিশেষ খাবার, যেখানে অন্য ধরনের খাবার সরবরাহ সম্ভব নয়।
খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধিতে কঠোর মানদণ্ড
প্রত্যেক প্রকল্প শুরুর আগে স্বাস্থ্য ও পেশাগত নিরাপত্তা, কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ব্যয়বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
রান্নাঘর ও গুদামের জন্য নির্দিষ্ট শর্তাবলি রয়েছে—বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগ পরীক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ ও ধোঁয়া ও গ্যাস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও জরুরি নির্গমন পথ, নিয়মিত অগ্নি ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, এবং খাবার প্রস্তুত স্থানে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক।
কাঁচা মাংস ও পোলট্রি এবং তাজা ফল-সবজি প্রস্তুত আলাদা স্থানে ও আলাদা সরঞ্জামে করতে হবে। সালাদ ও ফল প্রস্তুতের জন্যও পৃথক এলাকা নির্ধারণ করতে হবে।
খাবার প্রস্তুতকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সংক্রামক রোগমুক্ত থাকার সনদ, বৈধ স্বাস্থ্য সনদ, গ্লাভস, মাস্ক, হেয়ার ক্যাপ ও এপ্রোন পরা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তদারকি ও খাবারের নমুনা সংরক্ষণ
প্রতিদিন প্রস্তুত প্রতিটি খাবার বা উপাদানের ২০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত নমুনা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ফ্রিজে ৭২ ঘণ্টা সংরক্ষণ করতে হবে। খাদ্যে বিষক্রিয়ার সন্দেহ হলে নমুনা মহামারি তদন্ত দলের কাছে পাঠাতে হবে এবং সন্দেহভাজন খাবার পরিবর্তন করা যাবে।
যদি খাবারে পচন বা দূষণ ধরা পড়ে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নষ্ট করতে হবে এবং নগদ জামানতের অর্থে বিকল্প খাবার সরবরাহ ও জরিমানা আরোপ করতে হবে।
খাদ্যমান ও সংরক্ষণে নির্দিষ্ট মানদণ্ড
উচ্চ পরিশ্রমের ইউনিটের সদস্যদের জন্য দৈনিক ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোক্যালরি খাবার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বিতে ভাগ করা হবে। খাবার পাঁচটি প্রধান গ্রুপে ভাগ—সবজি, ফল, দুগ্ধজাত পণ্যসহ।
প্রতিদিন ও সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস, মাছ, মুরগি, পানীয় জল, জুস, খেজুর ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়েছে—যেমন, প্রতি সপ্তাহে তিনবার ২৫০ গ্রাম খাসির মাংস, একবার ২৫০ গ্রাম মাছ, প্রতিদিন ২৯০ গ্রাম মুরগি। রমজান ও সাধারণ দিনের জন্য আলাদা সরবরাহ তালিকা রয়েছে।
চুক্তিভিত্তিক সরবরাহকারীকে ৩০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে নন-ফ্রেশ খাবার ও ভোগ্যপণ্য মজুত রাখতে হবে, যা চুক্তির আগের দিন থেকেই সরবরাহ শুরু করতে হবে এবং নিয়মিত ঘাটতি পূরণ ও ব্যবহৃত পণ্য পুনরায় সরবরাহ করতে হবে।
