মূল বিষয়বস্তুতে যান
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

মসজিদে নববির খতিবের হুঁশিয়ারি: দুই পবিত্র মসজিদে হামলা গুরুতর অপরাধ

শেখ আবদুলমুহসিন আল-কাসিম শুক্রবারের খুতবায় বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা রক্ষা করা জরুরি এবং এখানে হামলা করা বড় অপরাধ।

আজেল বাংলা41 মিনিট আগে · 2 মিনিট পড়া
মসজিদে নববির খতিব শুক্রবারের খুতবা দিচ্ছেন

মূল বিষয়

AI

মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শেখ ড. আবদুলমুহসিন আল-কাসিম আজ শুক্রবারের খুতবায় আল্লাহর সৃষ্টিতে তাঁর প্রজ্ঞা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আল্লাহর সব কাজই প্রজ্ঞা ও দয়ার ওপর ভিত্তি করে এবং মানুষের ওপর যে নেয়ামত বা পরীক্ষাই আসুক, তা আল্লাহর নির্ধারিত হিসেবেই ঘটে।

শেখ কাসিম বলেন, মানুষের চরিত্র, বুদ্ধি, রিজিক ও জীবিকা-জীবনের বৈচিত্র্য আল্লাহর সৃষ্টির প্রজ্ঞারই অংশ। এতে একে অপরের উপকার হয় এবং মানুষের কল্যাণ সাধিত হয়। তিনি কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমরাই তাদের মধ্যে জীবিকার বণ্টন করেছি দুনিয়ার জীবনে...’

তিনি আরও বলেন, আল্লাহই রিজিকদাতা এবং তিনি তাঁর জ্ঞানের আলোকে বান্দাদের জন্য যা ভালো, সেই অনুযায়ী রিজিক নির্ধারণ করেন। যদি রিজিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দিতেন, তবে তা অহংকার ও সীমালঙ্ঘনের কারণ হতো। তিনি কোরআনের আরেকটি আয়াত উদ্ধৃত করেন, ‘যদি আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য রিজিক বাড়িয়ে দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে সীমালঙ্ঘন করত।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, আল্লাহর দান বা বঞ্চনা—সবই তাঁর অগাধ প্রজ্ঞার ফল।

তিনি বলেন, আল্লাহ কখনো নেয়ামতের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, আবার কখনো পরীক্ষার মধ্যেও নেয়ামত দেন—এতে মর্যাদা বাড়ে, পাপ মোচন হয়। দারিদ্র্য ও সম্পদ—উভয়ই পরীক্ষা, যার রহস্য অনেক সময় মানুষের অজানা থেকে যায়। তিনি বলেন, বেশি রিজিক পাওয়া আল্লাহর ভালোবাসার প্রমাণ নয়, আবার দারিদ্র্যও তাঁর অসন্তুষ্টির লক্ষণ নয়। প্রকৃত মর্যাদার মাপকাঠি হলো ঈমান, তাকওয়া ও সৎকর্ম।

মর্যাদার মানদণ্ড ও ধৈর্য-শোকরের গুরুত্ব

তিনি বলেন, নবী-রাসুল ও সাহাবিদের মধ্যেও কেউ ছিলেন ধনী, কেউ দরিদ্র; কিন্তু সম্পদ কখনোই মর্যাদার মানদণ্ড ছিল না। বরং ঈমান, তাকওয়া ও সৎকর্মই আসল। তিনি কোরআনের উদ্ধৃতি দেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।’

তিনি বলেন, ধৈর্য ও শোকর—এই দুই গুণ মুমিনের জন্য অপরিহার্য। ধনী আল্লাহর নেয়ামতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে, দরিদ্র ধৈর্য ধরবে। জীবনে কখনো কখনো এই দুই গুণ একসঙ্গে থাকা যায়। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল ধৈর্য ও শোকরের পূর্ণ উদাহরণ।

দুই পবিত্র মসজিদের মর্যাদা ও হামলার বিরুদ্ধে সতর্কতা

খুতবার শেষাংশে মসজিদে নববির ইমাম মক্কা ও মদিনার মর্যাদা ও গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, এই দুই শহরের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা বজায় রাখা, সম্পদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদসমূহ সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

শেখ কাসিম দুই পবিত্র মসজিদে হামলা ও নিরাপদ মানুষদের আতঙ্কিত করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, এটি বড় অপরাধ। তিনি ইয়েমেনের হুথি মিলিশিয়াদের হামলার কথা উল্লেখ করেন, যা দুই পবিত্র শহরের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি কোরআনে হাতির বাহিনীর ঘটনা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করেন: ‘যে ব্যক্তি মদিনার বাসিন্দাদের অন্যায়ভাবে ভয় দেখাবে, আল্লাহ তাকেও ভয় দেখাবেন এবং তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সব মানুষের অভিশাপ পড়বে।’

মন্তব্য (0)