রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবের ১৭৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮২তম অধিবেশনের সাইডলাইনে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনায় সৌদি আরবের প্রতিনিধি ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়া জানিয়েছেন, দেশটি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ১৭৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছে।
মূল বিষয়
AIজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮২তম অধিবেশনের সাইডলাইনে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনায় গতকাল অংশ নেন সৌদি রাজপ্রাসাদের উপদেষ্টা ও কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্রের প্রধান ড. আবদুল্লাহ বিন আব্দুলআজিজ আল-রাবিয়া। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, গাম্বিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ড. রাবিয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা বিশ্ববাসীর অগ্রাধিকার হিসেবে রাখার জন্য তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখনো ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের অনেকেই পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
তিনি জানান, মানবিক চাহিদা বাড়লেও অর্থায়নের সুযোগ সীমিত। ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১৬ লাখ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করে এসব চাহিদা পূরণ ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সকল বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘের সর্বশেষ মানবাধিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং এসব গুরুতর লঙ্ঘনের অবসান জরুরি।
ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়া বলেন, "সৌদি আরব রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। ২০১৭ সাল থেকে আমরা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ১৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছি। এই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে, যারা আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে জরুরি চাহিদা পূরণে। এরই অংশ হিসেবে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের দুটি প্রকল্প রয়েছে বাংলাদেশে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও আশ্রয় নিশ্চিত করছে।"
"এছাড়া, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের জন্য পানি ও স্যানিটেশন সেবাও নিশ্চিত করা হচ্ছে," বলেন তিনি।
ড. রাবিয়া আরও বলেন, শুধু মানবিক সহায়তা যথেষ্ট নয়, বরং মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় টেকসইভাবে নিজ দেশে ফিরতে পারে।
তিনি যোগ করেন, "সৌদি আরব সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণ, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।"
