হরমুজ ও বাব আল-মানদেব এড়াতে সৌদি তেলের খরচ বাড়ছে
ইরান ও ইয়েমেনের হুথিদের কারণে হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালী বন্ধ থাকায় সৌদি আরবকে সুয়েজ খাল ঘুরে তেল রপ্তানি করতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ বেড়েছে।
মূল বিষয়
AIইরান ও ইয়েমেনের হুথি মিলিশিয়াদের কারণে সৌদি আরবের প্রধান দুটি তেল রপ্তানি পথ—হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালী—বন্ধ থাকায় দেশটি এখন মিশরের সুয়েজ খাল ব্যবহার করে তেল রপ্তানিতে বাধ্য হচ্ছে।
সত্তর ও আশির দশকের তুলনায় এখন সৌদি তেলের প্রধান ক্রেতারা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং এশিয়ার দেশগুলো।
এশিয়ায় পৌঁছাতে হলে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যেতে হবে, এতে যাত্রার সময় প্রায় এক মাস বাড়বে।
সাধারণত ইয়ানবু বন্দরের সৌদি ট্যাংকার বাব আল-মানদেব প্রণালী হয়ে তাইওয়ানে পৌঁছাতে মাত্র ১৯ দিন সময় লাগে।
কিন্তু সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালী এবং এরপর رأس الرجاء الصالح ঘুরে গেলে এ পথ পাড়ি দিতে ৪৮ দিন সময় লাগে—কেপলার ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের শিপিং তথ্য অনুযায়ী।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য ও রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘ পথের জন্য শুধু জ্বালানির খরচই ১.২৬ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২.৮৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, সুয়েজ খাল পারাপারে ট্যাংকারপ্রতি এক মিলিয়ন ডলার ফি দিতে হয়।
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের তথ্য অনুযায়ী, বড় ট্যাংকারগুলোকে সুয়েজ খালের সীমাবদ্ধতার কারণে অর্ধেক খালি অবস্থায় পার হতে হবে, পরে ভূমধ্যসাগরে আবার তেল তুলতে হবে।
এ জন্য সৌদি আরব ট্যাংকারের কিছু তেল ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুমেইড পাইপলাইনে পাঠাতে পারে, যা সুয়েজ খাল এড়িয়ে লোহিত সাগরের আল-আইন আল-সুখনা থেকে ভূমধ্যসাগরের সিদি কিরির পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহন করা যায়, যেখানে সৌদি আরবের মোট রপ্তানি সাত মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন।
