মিশরীয় বন্ডের ঝুঁকি প্রিমিয়াম ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন
মিশরের সার্বভৌম বন্ডের ঝুঁকি প্রিমিয়াম ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্নে নেমেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংস্কারে অগ্রগতির ফলে এই উন্নতি হয়েছে।
মূল বিষয়
AIমিশরের সার্বভৌম বন্ডের ঝুঁকি প্রিমিয়াম ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অর্থনীতির সামগ্রিক সূচকের উন্নতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রশংসা এই অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
জেপি মরগ্যান চেজ অ্যান্ড কো’র তথ্য অনুযায়ী, ডলারে মূল্যায়িত মিশরীয় বন্ড ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের আয়ের ব্যবধান গত সপ্তাহের শেষে ৩২২ বেসিস পয়েন্টে নেমেছে। যদিও মঙ্গলবার বৈশ্বিক ঋণবাজারে বিক্রির কারণে তা কিছুটা বেড়েছে, তবুও মার্চের তুলনায় এখনো ১৫০ বেসিস পয়েন্ট কম।
তিন বছর আগের তুলনায় এটি বড় ধরনের উন্নতি, যখন মিশর বাড়তি অর্থায়ন চাপে ও ঋণ খেলাপির ঝুঁকিতে ছিল।
বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে উন্নতি
সাম্প্রতিক অগ্রগতি ইঙ্গিত দেয়, মিশর ধীরে ধীরে ডলারের সংকট ও ঋণের চাপ কাটিয়ে উঠছে। বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক দেনা পরিশোধের সক্ষমতাও বেড়েছে।
গত জুলাইয়ের শেষে আইএমএফ মিশরের অর্থনৈতিক সংস্কারে অগ্রগতির প্রশংসা করে। এতে দেশটি ১.৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন পায় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে।
বিদেশে কর্মরত মিশরীয়দের রেমিট্যান্স ও পর্যটন আয় বেড়েছে। স্থানীয় মুদ্রা পাউন্ডের বিনিময় হার আরও নমনীয় হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষয় না করেই বাইরের ধাক্কা সামলাতে পেরেছে অর্থনীতি।
উইলিয়াম ব্লেয়ার কোম্পানির পোর্টফোলিও ম্যানেজার ইভেট বাব বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন মিশরকে আগের চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন এবং সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশটি উচ্চ আয়শ্রেণির উদীয়মান অর্থনীতির কাতারে আসছে।
উদীয়মান বাজারে এগিয়ে মিশরীয় বন্ড
মার্চের শেষ থেকে মিশরীয় বন্ডে মোট আয় ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যেখানে উদীয়মান বাজারের গড় ছিল ৩.২ শতাংশ। পাঁচ বছরের ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপের খরচ ১৬২ বেসিস পয়েন্ট কমে ২৬৯ বেসিস পয়েন্টে নেমেছে।
বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, শুধু উচ্চ আয়শ্রেণির উদীয়মান বাজারের ঋণবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নয়, বরং আইএমএফের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও বৈদেশিক রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণে মিশরের প্রতি আস্থা বেড়েছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে আইএমএফ মিশরের অর্থায়ন কর্মসূচির শেষ আগের পর্যালোচনা শেষ করে। একই সময়ে ইউরোপীয় কমিশন ১.৫ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১.৭৩ বিলিয়ন ডলার) ছাড় দেয়, যা ৪ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের কর্মসূচির অংশ।
বিদেশে কর্মরত মিশরীয়দের রেমিট্যান্স ও সুয়েজ খালের আয় বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জুলাইয়ে ৫৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড।
অ্যালায়েন্স বার্নস্টাইনের উদীয়মান বাজার ঋণ গবেষণা প্রধান অ্যাড্রিয়ান ডু টোইট বলেন, মিশরের উন্নতি মূলত মৌলিক কারণে, শুধু স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীর মনোভাব বা বাইরের কারণে নয়।
ঋণমান উন্নতির প্রত্যাশা
আর্থিক সূচকের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কিছু বিনিয়োগকারী আশা করছেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর মিশরের ঋণমান বাড়তে পারে।
ডু টোইট মনে করেন, বর্তমানে ‘Caa1’ রেটিংধারী মিশরের ঋণমান মুডিজ বাড়াতে পারে।
তবে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত হলেও, মিশরের সামনে এখনো ঋণ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে— যেমন উচ্চ অর্থায়ন চাহিদা ও সরকারি সম্পদ বিক্রির কর্মসূচিতে অগ্রগতির সীমাবদ্ধতা।
আইএমএফ সতর্ক করেছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে কঠোর মুদ্রানীতি, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সম্পদ বিক্রির স্পষ্ট কর্মসূচি ও কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
মিশরীয় বন্ডে শক্তিশালী লাভের পর কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন, সম্ভাব্য উন্নতির বড় অংশই ইতিমধ্যে দামে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরকাম ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার ফাদি জুন্দি বলেন, আইএমএফের কর্মসূচি বাস্তবায়নে মিশরের প্রতিশ্রুতিকে বাজার পুরস্কৃত করেছে। তবে ইউরোতে মূল্যায়িত কিছু মিশরীয় বন্ডে সুযোগ সীমিত, কারণ এগুলোর ফলাফল বৈশ্বিক বাজার ও বিনিয়োগকারীর ঝুঁকিপ্রীতির ওপর নির্ভর করছে।
