ওপেক প্লাসের উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনা স্থগিত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ায় ওপেক প্লাস জোটের ২০২৭ সালের তেল উৎপাদন কোটা নির্ধারণের পর্যালোচনা পিছিয়ে গেছে।
মূল বিষয়
AIজানা গেছে, ওপেক প্লাস জোট ২০২৭ সালের জন্য সদস্য দেশগুলোর তেল উৎপাদন কোটা নির্ধারণে সহায়তার লক্ষ্যে যে পর্যালোচনা করছিল, তা স্থগিত হয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত হয়েছে, এতে সদস্য দেশগুলোর ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতা মূল্যায়ন আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ওপেক প্লাস—যার মধ্যে ওপেকভুক্ত দেশ ও তাদের মিত্র রাশিয়াও রয়েছে—সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ২০২৫ সালের শেষ দিকে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ২০২৭ সালের কোটা নির্ধারণ করা যায়। এই প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা।
দুই সূত্র জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তাদের একজন জানান, আশা করা হচ্ছে, এই পর্যালোচনা ২০২৪ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি শেষ হবে। ওপেক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত জুনে ওপেক জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের জন্য উৎপাদন স্তর নির্ধারণে প্রতিটি দেশের টেকসই সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতার মূল্যায়ন সম্পন্ন করা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে ওপেক প্লাসের কিছু দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প বিলম্বিত হয়েছে, ফলে তারা কতটা তেল উৎপাদন করতে পারবে তা নির্ধারণ আরও কঠিন হয়েছে। সূত্র জানায়, কিছু দেশ এখনও পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়নি, তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
রয়টার্স বলছে, এই অনিশ্চয়তা ওপেক প্লাসের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল প্রক্রিয়াটিকে আরও জটিল করে তুলেছে, কারণ উৎপাদন সক্ষমতার এই হিসাবই নির্ধারণ করবে কোন দেশ কতটা তেল উত্তোলন করতে পারবে।
পর্যালোচনার লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিটি সদস্য দেশের টেকসই উৎপাদন সক্ষমতার সর্বশেষ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা, যা উৎপাদন লক্ষ্য নিয়ে আলোচনার মূল ভিত্তি। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনায় বিলম্ব হলে এসব মূল্যায়নের ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ কোটা প্রভাবিত হতে পারে।
