ইসরায়েলি বসতিতে জড়িত ১১ দেশের ২১৪ কোম্পানির তালিকা জাতিসংঘে
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ইসরায়েলি বসতিতে সংশ্লিষ্ট ১১ দেশের ২১৪টি কোম্পানিকে ডেটাবেসে তালিকাভুক্ত করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে পদক্ষেপ নিতে বলেছে।
মূল বিষয়
AIইসরায়েলি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত বসতিতে নির্দিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত ১১ দেশের ২১৪টি কোম্পানিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন তাদের ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব কোম্পানিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, ২০২০ সালে মানবাধিকার পরিষদের নির্দেশে তৈরি করা ডেটাবেসের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে আরও ৬১টি কোম্পানি যুক্ত হয়েছে এবং পাঁচটি কোম্পানিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ কমিশনের মূল্যায়নে দেখা গেছে, তারা আর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত নেই।
এবারের হালনাগাদে কৃষি, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, খাদ্য ও আতিথেয়তা খাতের কোম্পানিগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে কমিশনের প্রকাশিত তথ্য আহ্বানের পর গত বছর ২১৫টি এবং চলতি বছর আরও ১২৬টি কোম্পানির তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। যেসব কোম্পানির তথ্য প্রতিবেদনে আসেনি, তাদের সম্পর্কেও মূল্যায়ন চলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনের মূল্যায়ন মূলত ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের ওপর প্রভাবের দিকেই কেন্দ্রীভূত, মানবাধিকারের অন্যান্য দিক এতে অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ কমিশনের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জাতিসংঘের ব্যবসা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্টতা তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে: সরাসরি প্রভাব সৃষ্টি, অবদান রাখা, অথবা সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা।
কমিশন জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২০০টি কোম্পানি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, ১৪টি কোম্পানি সরাসরি এসব প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত, তবে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রভাব সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফোলকার টুর্ক বলেন, "এই প্রতিবেদন কোম্পানিগুলোকে তাদের মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয় এবং প্রত্যাশা করে, তারা যেন মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে।"
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচারিক, প্রশাসনিক বা আইনগত পদক্ষেপসহ উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা কার্যকর প্রতিকার পায়। এসব পদক্ষেপ দেশের ভেতরে বা তাদের বিচারিক এখতিয়ারে থাকা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির বেশিরভাগই ইসরায়েলি। অন্য কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র (৮টি), স্পেন (৩টি), যুক্তরাজ্য (২টি), ফ্রান্স (২টি), চীন (২টি), দক্ষিণ আফ্রিকা, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও মেক্সিকো (প্রতিটি দেশ থেকে একটি করে) কোম্পানি।
