তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও কমল তেলের দাম
সপ্তাহজুড়ে ১২% বাড়লেও শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে, লাল সাগরে উত্তেজনা ও সৌদি ট্যাংকারে হামলার পরও সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে এই পতন দেখা গেছে।
মূল বিষয়
AIশুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের ফিউচার দাম কমেছে, যদিও সপ্তাহজুড়ে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে বাজার। লাল সাগরে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা ও ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে।
গ্রিনিচ সময় সকাল ৭:৪৭-এ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৮২ ডলার বা ১.৮১% কমে দাঁড়ায় ৯৮.৮৭ ডলারে। বৃহস্পতিবার দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা মে মাসের পর প্রথম, এবং গত সেশনে ৭% বেড়েছিল। ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘোষণার পর এই বৃদ্ধি ঘটে। সপ্তাহ শেষে ব্রেন্টের দাম ১২% বাড়ার পথে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৬০ ডলার বা ১.৭৪% কমে দাঁড়ায় ৯০.৫৯ ডলারে। তবে সপ্তাহজুড়ে এই তেলের দাম ৯.৭% বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তেলবাজার বিশ্লেষক জন ইভান্স (বিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটস) বলেন, প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহ পথগুলো যুদ্ধবেষ্টিত, ফলে স্বল্পমেয়াদে দাম আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাল সাগরে হামলার পর ইরান ও তাদের মিত্র হুথিদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর সামরিক প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায়, ইরান তাদের ইয়েমেনি মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালালে তারা যেন বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালীটি হরমুজের পর বিশ্বের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ।
হুথিরা সোমবার সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে সৌদি আরব তাদের তেল পরিবহনের পথ পরিবর্তন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছে, যাতে হরমুজ প্রণালী এড়ানো যায়, যা ইরান বন্ধ করে রেখেছে।
জেপি মরগান বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, তেল সরবরাহে প্রতি মাসের অতিরিক্ত বিঘ্ন ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ থেকে ৮ ডলার বাড়াতে পারে। যদি এই বিঘ্ন তিন মাস স্থায়ী হয়, তাহলে মাসিক গড় দাম ১১৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে, শুক্রবার রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতে ইউক্রেনের তিনটি বন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, এতে শিপিং ও আনলোডিং অবকাঠামো এবং জ্বালানি মজুদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে সহায়তা করছিল।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার কাজাখস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সন্দেহভাজন হামলায় কৃষ্ণসাগরের প্রধান রপ্তানি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির তেল কোম্পানিগুলো সাময়িকভাবে উৎপাদন কমিয়েছে।
