তেলের দাম বাড়ছে, ব্রেন্ট অয়েল ১.১১% বেড়ে ৯৭.৩৫ ডলার
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে সোমবার আবারও তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট অয়েল ব্যারেলপ্রতি ৯৭.৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ওপেক প্লাসের উৎপাদন নীতি।
মূল বিষয়
AIমধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ায় সোমবারও তেলের দাম বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন স্থানে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রেন্ট অয়েলের দাম ১.১১% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭.৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। ব্রেন্টের ফিউচার মূল্য ৫২ সেন্ট বা ০.৫৪% বেড়ে ৯৬.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে (২৩:৫৪ জিএমটি পর্যন্ত)। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৬৬ সেন্ট বা ০.৭২% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.১৪ ডলারে উঠেছে।
গত সপ্তাহে ব্রেন্ট অয়েল ৭.৮% এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ১০% বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হামলা বাড়ানোর পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন কমে যায়, যেখানে যুদ্ধের আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হতো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার তাদের বাহিনী ইরানের তিনটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে, যার একটি ছিল খার্জ দ্বীপের কাছে, ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্রের পাশে।
এদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে অনুমোদনহীন পথে চলা তিনটি তেল ট্যাংকার এবং বিভিন্ন স্থানে তিনটি মার্কিন জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে সামুদ্রিক তথ্য সংস্থা ম্যারিস্ক জানিয়েছে, শনিবারের হামলা সামুদ্রিক সংঘাতের বড় ধরনের উত্তেজনা। সংস্থাটি জানায়, বাণিজ্যিক ট্যাংকারগুলো এখন পারস্পরিক অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এতে সামরিক ও বাণিজ্যিক শিপিংয়ের পার্থক্য কমে যাচ্ছে।
কেপলার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন।
এদিকে, ওপেক প্লাস জোট রোববারের বৈঠকে অক্টোবর মাসের জন্য অপরিবর্তিত তেল উৎপাদন নীতি বহাল রেখেছে। তবে, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের আগে নতুন কোটার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা ও সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকতে পারে, এতে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দেরি হবে।
তাদের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত রপ্তানি সীমিত থাকবে এবং যুদ্ধের আগের প্রবাহে ফিরতে ২০২৭ সালের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
