মাত্র ৫ দিনে মোহাম্মদ সালাহকে দলে নিল তুরস্কের ত্রাবজোন
ত্রাবজোন ক্লাবের সভাপতি জানালেন, মাত্র পাঁচ-ছয় দিনের আলোচনায় মিশরের তারকা মোহাম্মদ সালাহকে দলে টেনেছে তুরস্কের ত্রাবজোন স্পোর।
মূল বিষয়
AI
তুরস্কের ত্রাবজোন স্পোর ক্লাবের সভাপতি আরতুগরুল দোগান জানিয়েছেন, মিশরের তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহকে দলে টানার আলোচনার বিস্তারিত। তিনি বলেন, বেসিকতাসের সঙ্গে সালাহর আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ক্লাবটি তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এবং মাত্র পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হয়।
দোগান বিবিসিকে বলেন, ত্রাবজোন স্পোর সালাহকে দলে নিতে চেয়েছিল বিশ্বকাপের সময় থেকেই। তবে তারা জানত, সালাহ তখন আরও কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। পরে তুরস্কের অন্য ক্লাবগুলো আগ্রহ হারালে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়।
ক্লাব সভাপতি জানান, তুরস্কে অলিখিত একটি নিয়ম আছে—একটি ক্লাব কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলে অন্য ক্লাবগুলো অপেক্ষা করে। তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, আরও কিছু ক্লাব আগ্রহী ছিল, কিন্তু তারা সরে দাঁড়ানোর পর আমরা আলোচনা শুরু করি। আমার মনে হয়, পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়।'
আলোচনা শুরু হয়েছিল 'জুম' অ্যাপে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে, যা শুরুতে ছিল পরিচিতিমূলক। পরে সালাহ ছুটিতে থাকাকালীন আলোচনা আবার শুরু হয়।
ত্রাবজোন কীভাবে সালাহকে রাজি করাল?
দোগান জানান, সালাহ তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন তিনি ত্রাবজোনকেই বেছে নিয়েছেন। উত্তরে সভাপতি শহর, ক্লাব ও সমর্থকদের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, 'নিশ্চিত থাকুন, আপনি এমন সমর্থকদের পাবেন, যাদের মতো আগে দেখেননি। এখানকার মানুষ আপনাকে নিখাদ ভালোবাসা দেবে। পুরো শহর ফুটবলের পাগল। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক-সমর্থিত শহর।'
দোগান আরও বলেন, 'আমরা চাই ত্রাবজোন স্পোর ও ত্রাবজোন শহর বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলারদের জন্য গন্তব্য হয়ে উঠুক।'
দ্রুত আলোচনার পর সালাহ লিভারপুল ছেড়ে ত্রাবজোনে যোগ দেন, যদিও তার নাম আগে আরও কয়েকটি বড় ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়েছিল, যার মধ্যে ছিল তুরস্কের বেসিকতাসও।
সালাহর মেডিকেল পরীক্ষা ইস্তাম্বুলে কেন?
দোগান জানান, সালাহর মেডিকেল পরীক্ষা ত্রাবজোনের বদলে ইস্তাম্বুলে করা হয়েছিল, যাতে তিনি শুধু ত্রাবজোন নয়, পুরো তুরস্কে কেমন অভ্যর্থনা পাবেন, তা বুঝতে পারেন।
তিনি বলেন, সালাহ ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর সময় হাজারো সমর্থক তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিল, যদিও সেটি ছিল কর্মদিবসের মধ্যাহ্নে।
সালাহর বেতন ও চুক্তির প্রভাব
সালাহ বছরে ১৭ মিলিয়ন ইউরো বেতন পাবেন, সঙ্গে নিজের নামে বিক্রি হওয়া পণ্যের আয়ের ২০ শতাংশ পাবেন।
দোগান জানান, আর্থিকভাবে সরাসরি লাভ না হলেও সালাহর আগমনে মৌসুমী টিকিট বিক্রি ও ক্লাবের বাণিজ্যিক আগ্রহ বেড়েছে।
তিনি বলেন, 'শুধু আর্থিক দিক থেকে দেখলে এই চুক্তিতে সরাসরি কোনো লাভ নেই। তবে আমরা এবার মৌসুমী টিকিটের দাম বাড়িয়েছি, আবারও বাড়াতে হয়েছে। আমি সমর্থকদের বলেছি, দেখুন, আমি আপনাদের সালাহ দিচ্ছি, বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা।'
ত্রাবজোন সভাপতি জানান, সালাহর চলতি বছরের বেতনের প্রায় ৭০ শতাংশই টিকিট বিক্রির প্রথম চার-পাঁচ দিনে উঠে এসেছে।
ক্লাবের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ২৫ হাজার মৌসুমী টিকিট বিক্রি, তবে এখন প্রত্যাশা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ইতিমধ্যে বড় বড় কোম্পানি সালাহকে ঘিরে ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।
