ফিফা সভাপতির পদে ইনফান্তিনোকে সরানোর তৎপরতা, বিকল্প হিসেবে আলোচনায় নতুন নাম
বিতর্কিত বিশ্বকাপ বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থা বিকল্প নেতৃত্বের পক্ষে সোচ্চার।
মূল বিষয়
AI
বিতর্কিত বিশ্বকাপের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর পদে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফাসহ একাধিক মহাদেশীয় সংস্থার প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছেন তিনি।
উয়েফা ছিল ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার। সংস্থাটির ৫৫টি সদস্য দেশ জানিয়ে দিয়েছে, ফিফার 'এডভান্সড ফিফা ফাউন্ডেশন' (FFE) পরিকল্পনা প্রত্যাহার না করলে তারা কোনো ফিফা টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। এমনকি পরবর্তী বিশ্বকাপও বয়কটের হুমকি দেয় তারা। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতে ইনফান্তিনো প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করেন।
উত্তর, মধ্য ও ক্যারিবীয় আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) আলোচনার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এশিয়ান ফুটবল সংস্থাও ফিফার পরিচালনা কাঠামো দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে, এতে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতির নির্বাচন সামনে রেখে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় বাড়ছে। কারণ, কিছু মহাদেশীয় সংস্থার মধ্যে তার প্রতি সমর্থন কমে গেছে।
উয়েফার ভেতরে ইনফান্তিনোর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নতুন প্রার্থীকে সমর্থনের দাবি জোরালো হচ্ছে। আলোচনায় উঠে এসেছে উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার চেফেরিনের নাম।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে চেফেরিন উপস্থিত ছিলেন না। কারণ, ওই আসর ঘিরে বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা নিয়ে। উয়েফা এটিকে 'লাল রেখা অতিক্রম' বলে মন্তব্য করে।
২০১৬ সাল থেকে উয়েফার নেতৃত্বে থাকা স্লোভেনিয়ান আইনজীবী চেফেরিন আপাতত নিজের পদেই থাকতে চান বলে জানা যায়। তিনি আগামী বছর তৃতীয় মেয়াদে প্রার্থী হবেন না বলেও জানিয়েছিলেন, অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত। তবে অন্য কেউ না দাঁড়ালে তিনি নির্বাচন করতে পারেন।
তবে চেফেরিন এখনই ফিফা সভাপতির দৌড়ে নামার ব্যাপারে আগ্রহী নন। ফলে উয়েফার কিছু সদস্য অন্য প্রার্থীর সন্ধান করছেন।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, প্যারিস সেন্ট জার্মেইন ক্লাবের সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির নামও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টসের চেয়ারম্যান হিসেবে খেলাইফি ফুটবলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বও তিনি নিয়েছেন, ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার পর। এই সংস্থাও ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা নিয়ে 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করেছে।
টকস্পোর্ট জানিয়েছে, উয়েফার অন্তত বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ খেলাইফিকে সমর্থন করতে পারে। তবে খেলাইফি এখনো প্রার্থী হতে আগ্রহী নন, তাকে রাজি করাতে হবে।
পলিটিকোকে দেওয়া এক বিবৃতিতে খেলাইফির মুখপাত্র বলেন, "নাসেরের ফিফার কোনো পদে আগ্রহ, ইচ্ছা বা লক্ষ্য নেই। তিনি বিশ্ব ও ইউরোপীয় ফুটবলের সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি নীরব সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।"
এছাড়া, উয়েফার কিছু সদস্য দারিউস মিউডোস্কির নামও বিবেচনা করছেন। তিনি পোল্যান্ডের লেগিয়া ওয়ারশো ক্লাবের মালিক। টকস্পোর্ট জানিয়েছে, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি ও স্পেনের কর্মকর্তারা এই পোলিশ আইনজীবীর নাম তুলেছেন।
তবে মিউডোস্কি নিজ দেশে বড় সমর্থন পাচ্ছেন না। পোলিশ ফুটবল সংস্থা খেলাইফিকেই সমর্থন দিতে চায়।
ইউরোপের বাইরে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টালিয়ানি ইনফান্তিনোর উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় এসেছেন। ফিফার নেতৃত্বে আসার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তার আছে বলে জানা যায়।
২০২৩ সালে মন্টালিয়ানি সর্বসম্মতভাবে কনকাকাফ সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে। আপাতত তিনি আগামী বছর পুনর্নির্বাচনের দিকেই মনোযোগী।
ব্রিটিশ দৈনিক 'আই' জানিয়েছে, মন্টালিয়ানি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এবং মার্চের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিছু মহলে তার প্রতি সমর্থন বাড়ছে।
মন্টালিয়ানির নেতৃত্বাধীন কনকাকাফও ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, যদিও তারা উয়েফার মতো টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দেয়নি।
এশিয়ার দিক থেকেও ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে এশিয়ান ফুটবল সংস্থা। এটি ফিফা সভাপতির জন্য বড় ধাক্কা, কারণ এশিয়া এতদিন তার অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিল।
এশিয়ান ফুটবল সংস্থার সভাপতি ও ফিফা কাউন্সিলের সহ-সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া ফিফার সিদ্ধান্তকে 'একেবারেই অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেন। ৪৭টি সদস্য দেশের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে তিনি এ কথা বলেন। পরে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ফিফার পরিচালনা কাঠামো দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান জানায়। এতে ধারণা জোরালো হয়েছে, শেখ সালমানও ফিফা সভাপতির দৌড়ে নামতে পারেন। তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে।
