বিশ্বজুড়ে গরমে বাড়ছে শীতল পোশাকের চাহিদা
বিশ্বজুড়ে তীব্র গরমে ফ্যাশন জগতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে শীতল পোশাক, যা এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
মূল বিষয়
AIবিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। দ্রুত উন্নত হচ্ছে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি, যা এখন শুধু পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই—বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে টোকিওর রাস্তায় এখন শীতল ব্যবস্থা সংবলিত জ্যাকেট ও পোশাক সাধারণ দৃশ্য। গত বছর বিশ্বজুড়ে এই বাজারের আকার ছিল প্রায় 1.8 বিলিয়ন ডলার, যা 2034 সালে 4.6 বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, গত জুনে প্যারিসে পুরুষদের ফ্যাশন সপ্তাহে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহের মধ্যে বিখ্যাত ডিজাইনার রিক ওয়েনস অ্যাডিডাসের সঙ্গে যৌথভাবে শীতল জ্যাকেট ও ট্র্যাকস্যুট প্রদর্শন করেন। অনেক দর্শকই তখনই এই শীতল পোশাক পরে নিতে চেয়েছিলেন।
ওই প্রদর্শনীতে ওয়েনস জানান, নজরকাড়া ফোলানো পোশাকগুলোতে সংযুক্ত ফ্যান ছিল, যা অ্যাডিডাসের 'ক্লাইমা কুল' প্রযুক্তি ও শীতল জ্যাকেটের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যক্তিগত শীতল ব্যবস্থা তৈরি করে। এতে দৌড়বিদদের দেহের মূল অংশ দৌড় শুরুর আগে ঠান্ডা রাখা সম্ভব হয়।
ডিজাইনার ওয়েনস আরও বলেন, প্রকল্পটির পরিবেশগত লক্ষ্যও রয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি সবসময় বলি, পরিবেশ সংকট মোকাবিলার পথ এখনও দীর্ঘ, তবে আমরা সবাই কোথাও থেকে শুরু করতে পারি এবং আরও এগিয়ে যেতে পারি।'
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রশ্ন তুলেছে, শীতল পোশাক আসলে কতটা গরম মোকাবিলায় সহায়ক? তারা জানিয়েছে, ফ্যানযুক্ত জ্যাকেট একেবারে নতুন ধারণা নয়। সনি-র সাবেক প্রকৌশলী হিরোশি ইশিগায়া ২০০০-এর দশকের শুরুতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উঁচু ভবনগুলোতে এসি বসানোর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে চিন্তিত হয়ে এই জ্যাকেট উদ্ভাবন করেন। তিনি পিঠের দুই পাশে ফ্যানযুক্ত জ্যাকেট তৈরি করেন, যা সহজে বহনযোগ্য ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
২০০৪ সালে ইশিগায়া তার কোম্পানি 'কুচোফুকু'—যার অর্থই 'শীতল পোশাক'—এর মাধ্যমে জাপানে প্রথম এই পণ্য বাজারে আনেন। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বাড়ে। ২০১১ সালের তীব্র গরমে তিনি এবিসি নিউজকে জানান, 'বিক্রি দশগুণ বেড়েছে।' এখন জাপানে গ্রীষ্মে নির্মাণ শ্রমিক, ডেলিভারি চালক, ডাক কর্মীসহ অনেকেই ফ্যানযুক্ত জ্যাকেট পরেন। কুচোফুকুর জ্যাকেটের দাম শুরু ২০,০০০ ইয়েন (৯০ পাউন্ড) থেকে। আরও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মধ্যে আছে 'বার্টেল' ও 'মাকিতা'।
ফ্যানযুক্ত জ্যাকেট শরীরের চারপাশে বাতাস ঘুরিয়ে ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দাহুয়া শু বলেন, 'ঘাম বাষ্পীভবনই শরীরের স্বাভাবিক শীতল প্রক্রিয়া, তাই বাড়তি বাতাস এই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে।'
শু আরও জানান, বাজারে থাকা শীতল পোশাকগুলো ব্যাটারিচালিত এবং চার্জ ছাড়া ৪ থেকে ১২ ঘণ্টা চলে। তিনি বলেন, এই পোশাক শরীরকে আরও দীর্ঘ সময় ঠান্ডা রাখে, অন্য বিকল্প যেমন বরফ ভর্তি 'পিসিএম' জ্যাকেটের তুলনায়।
