বাহায় আরবী ক্যালিগ্রাফি সম্মেলনে ৬৮ শিল্পীর মিলন
বাহার আতাওয়ালায় পাঁচ দিনব্যাপী 'আরশুল হারফ' সম্মেলনে সৌদি আরব ও বিশ্বের ৬৮ জন ক্যালিগ্রাফার অংশ নিয়েছেন, আরবী ক্যালিগ্রাফির বিকাশে।
মূল বিষয়
AIবাহা অঞ্চলের আল-কুরা জেলার আতাওয়ালায় দার আওয়াদায় চলছে 'আরশুল হারফ' সম্মেলন। এতে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকা ও বিশ্বের নানা দেশের ৬৮ জন শীর্ষ ক্যালিগ্রাফার অংশ নিচ্ছেন, যা পাঁচ দিন ধরে চলবে।
সম্মেলনের নির্বাহী পরিচালক মনসুর মাদিস জানান, অংশগ্রহণকারী ক্যালিগ্রাফাররা তাদের শিল্পকর্ম সম্মেলনের আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করছেন, যাতে তারা মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। তিনি বলেন, সরাসরি এই ধরনের সাক্ষাৎকার ও আলোচনা সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শেখা ও বিকাশের জন্য অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরি করা। এতে আরবী ক্যালিগ্রাফি সংরক্ষণ ও এর অবস্থানকে ইসলামী ও আরবী শিল্পকলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব হচ্ছে।
সম্মেলনের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুরআন শরিফের ক্যালিগ্রাফার শাইখ উসমান তাহা। তিনি বলেন, এই সম্মেলন ক্যালিগ্রাফারদের মধ্যে মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা তাদের দক্ষতা বাড়াতে এবং আরবী ক্যালিগ্রাফির অবস্থানকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জোরালো করতে সহায়ক। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে এবং শিল্পীদের সৃজনশীলতায় উৎসাহ দেয়।
অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রতিভা বিকাশ
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন ক্যালিগ্রাফার তাদের শিল্পকর্ম শাইখ উসমান তাহার সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি সেগুলো পর্যালোচনা করেন এবং ক্যালিগ্রাফির মূলনীতি ও সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা করেন, যাতে শিল্পীদের কাজ আরও উন্নত হয় এবং তাদের দক্ষতা বাড়ে।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই সম্মেলন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে এবং আরবী ক্যালিগ্রাফির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এতে এই প্রাচীন শিল্পকলাকে জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রতীকে পরিণত করতে সহায়তা হচ্ছে।
বাহা: তরুণ প্রতিভার কেন্দ্র
উল্লেখ্য, বাহা অঞ্চলে ৫২ জনের বেশি ক্যালিগ্রাফার রয়েছেন, সঙ্গে রয়েছেন বহু তরুণ প্রতিভাবান, যারা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তত্ত্বাবধানে নানা উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি বাহার শীর্ষ ক্যালিগ্রাফাররা কিং আবদুলআজিজ ফাউন্ডেশনের 'ওহিইন ক্যালিগ্রাফি সম্মেলনে' অংশ নেন, যেখানে কুরআন ও হাদিস লেখার পদ্ধতি ও এই ক্ষেত্রে ক্যালিগ্রাফারদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
