তহবিল সংকটে এইডস ঝুঁকিতে ৩০ লাখের বেশি মানুষ
জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, তহবিল সংকটের কারণে এ দশকের শেষে ৩০ লাখের বেশি মানুষ এইডসে আক্রান্ত হতে পারেন।
মূল বিষয়
AIজাতিসংঘের এইডসবিষয়ক যৌথ কর্মসূচির সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, বৈশ্বিক তহবিলের ঘাটতি এবং প্রতিরোধী ওষুধের অসম প্রাপ্যতার কারণে চলতি দশকের শেষে ৩০ লাখের বেশি মানুষ এইডসে আক্রান্ত হতে পারেন।
জাতিসংঘের তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় উদ্ভাবনী প্রতিরোধী ওষুধ ও স্থানীয় উদ্যোগসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ থাকলেও টেকসই অর্থায়নের অভাবই বড় বাধা। এই সতর্কবার্তা এসেছে ২৭ থেকে ৩১ জুলাই রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিতব্য ২৬তম আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনের প্রাক্কালে।
প্রতিবেদনটি বলছে, অর্থায়নের ঘাটতি দেশগুলোকে মৌলিক সেবা কমাতে ও কমিউনিটি সংগঠন বন্ধ করতে বাধ্য করছে। জরুরি পদক্ষেপ না নিলে বিশ্ব আবারও এইডস মহামারির ঝুঁকিতে পড়বে বলে এতে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন যুগের ওষুধ এসেছে, যা টিকাদানের মতোই কার্যকর সুরক্ষা দেয়। তবে উচ্চমূল্য ও ওষুধ কোম্পানির পেটেন্টের কারণে এসব ওষুধ কোটি মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনটি জানায়, সম্মেলনের আয়োজক দেশ ব্রাজিল এই বৈপরীত্যের উদাহরণ—তারা 'লিনকাপাভির' ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নিলেও, কম দামে জেনেরিক উৎপাদনের অনুমতি পায়নি। বছরে দুবার ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া এই ওষুধ প্রায় ১০০% ক্ষেত্রে এইচআইভি সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত তিন দশকের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ ও এইডস-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন হলেও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া এখনও দুর্বল। ২০২৫ সালে তিনটি অঞ্চলে ও ২১টি দেশে নতুন সংক্রমণ বেড়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক তহবিল ১.৫ বিলিয়ন ডলার কমেছে, যা ১৮% হ্রাস এবং প্রায় ২০ বছরে সর্বনিম্ন।
প্রতিবেদন আরও জানায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক উন্নয়ন সহায়তা ২৩% কমেছে, যা এক বছরে সবচেয়ে বড় পতন। স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প, বিশেষ করে এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
