পুরুষদের টেস্টোস্টেরন কমায় যেসব ১১টি দৈনন্দিন অভ্যাস
এক গবেষণা বলছে, পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা প্রতিদিন ১১টি অভ্যাস ও কারণে বদলায়—এর মধ্যে আছে বয়স, ঘুমের ঘাটতি, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ ও কিছু ওষুধ।
মূল বিষয়
AIটেস্টোস্টেরন হলো পুরুষদের প্রধান হরমোন, যা পেশি গঠন, হাড়ের স্বাস্থ্য ও প্রজননক্ষমতার জন্য দায়ী। এ হরমোনের মাত্রা নানা দৈনন্দিন অভ্যাস ও কারণে প্রভাবিত হয় বলে জানিয়েছেন অন্তঃস্রাব বিশেষজ্ঞরা।
"ওয়াশিংটন পোস্ট"-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, চল্লিশের পর থেকে প্রতি বছর ১% থেকে ২% হারে টেস্টোস্টেরন কমে যেতে পারে। তবে যাঁরা স্থূলতা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ এড়াতে পারেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই মাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
১- বয়স বৃদ্ধি
চল্লিশের পর থেকে প্রতি বছর ১% থেকে ২% হারে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য ভালো থাকলে ও স্থূলতা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ না থাকলে বেশিরভাগ পুরুষের টেস্টোস্টেরন স্বাভাবিক থাকে।
২- ঘুমের ঘাটতি
ঘুমের সময় টেস্টোস্টেরন উৎপাদন বাড়ে। তাই ঘুমের অভাব বা ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হলে হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
এ কারণে ঘুমের ঘাটতি বা অনিয়মিত ঘুম টেস্টোস্টেরন কমিয়ে দিতে পারে, যা পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্য ও প্রজননক্ষমতাও কমাতে পারে।
৩- পরীক্ষার সময়
সকালে, বিশেষ করে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে এবং সন্ধ্যার দিকে কমে যায়।
তাই হরমোনের পরীক্ষা সকাল সাতটা থেকে দশটার মধ্যে করলেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফল পাওয়া যায়।
৪- ঋতু পরিবর্তন
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা শীতের তুলনায় বেশি হতে পারে—সম্ভবত বেশি রোদ ও শারীরিক সক্রিয়তার কারণে।
৫- সদ্য বাবা হওয়া
শিশুর জন্মের পর পুরুষদের টেস্টোস্টেরন সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এটি একটি জৈবিক প্রতিক্রিয়া, যা বাবাদের শিশুর প্রতি যত্নবান হতে সহায়তা করে। ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক চাপও এ সময়ে ভূমিকা রাখে।
৬- অতিরিক্ত ব্যায়াম
মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, বিশেষ করে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং, সাময়িকভাবে টেস্টোস্টেরন বাড়াতে পারে। তবে অতিরিক্ত বা দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর ব্যায়াম করলে উল্টো হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
৭- খাদ্যাভ্যাস
সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর ওজন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
গবেষকরা বলছেন, প্রচুর শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক।
৮- অ্যালকোহল সেবন
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান টেস্টোস্টেরন কমিয়ে দেয় এবং এটি পুরুষদের প্রজননক্ষমতা ও যৌনক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৯- দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
দীর্ঘদিন মানসিক চাপ থাকলে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং টেস্টোস্টেরন কমে যেতে পারে। এতে যৌনস্বাস্থ্য ও প্রজননক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১০- কিছু ওষুধ
কিছু ওষুধ—যেমন ওপিওয়েড ব্যথানাশক, কর্টিকোস্টেরয়েড, অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ও প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ—টেস্টোস্টেরন উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।
১১- খেলার জয়-পরাজয়
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয় দল জিতলে সমর্থকদের টেস্টোস্টেরন বাড়ে, হারলে কমে যায়। তবে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সীমিত।
