ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে কার্যকর আটটি উপায় চিহ্নিত গবেষণায়
গবেষকরা বলছেন, জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে ও আটটি উপায় মেনে চললে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৪৫% পর্যন্ত কমানো বা দেরি করা সম্ভব।
মূল বিষয়
AIল্যানসেট বৈজ্ঞানিক কমিটি জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ার ৪৫% ক্ষেত্রে প্রতিরোধ বা দেরি করা সম্ভব জীবনযাপনের ধরনে পরিবর্তন এনে এবং ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় কমিয়ে। এই কমিটিতে ২০ থেকে ২৫ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যারা তথ্য বিশ্লেষণ ও জরুরি স্বাস্থ্য ইস্যুতে সমাধান দেন।
ব্রিটেনের অ্যালঝেইমার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তথ্যসেবা পরিচালক এমা টেইলর বলেন, বয়স বাড়া ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
তিনি আরও জানান, মাত্র ১% ডিমেনশিয়া সরাসরি বংশগত, তবে কিছু মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ জিন (যেমন APOE4) থাকলেও, তা থাকলেই ডিমেনশিয়া হবে—এমন নয়।
টেইলর ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে আটটি প্রধান উপায়ের কথা উল্লেখ করেছেন:
প্রথমত: নিয়মিত যোগাযোগ—গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। টেইলর বলেন, বিষণ্নতা বিশেষভাবে ডিমেনশিয়ার পরিচিত ঝুঁকি। তাই নিয়মিত বন্ধু-পরিজনের সঙ্গে দেখা করা, নাচ, বই পড়া বা ধাঁধার ক্লাবে যোগ দেওয়া মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।
দ্বিতীয়ত: মস্তিষ্ক সচল রাখা—ধাঁধা বা বুদ্ধির খেলা খেলুন। টেইলর বলেন, আজীবন মস্তিষ্ক সক্রিয় ও উদ্দীপ্ত রাখলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে। নতুন দক্ষতা শেখা ও ধাঁধা সমাধান এ ক্ষেত্রে উপকারী।
তৃতীয়ত: নিয়মিত চোখ পরীক্ষা—টেইলর বলেন, চোখ পরীক্ষা মস্তিষ্কের যত্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, চোখ ও মস্তিষ্ক ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
ব্রিটিশ অ্যালঝেইমার রিসার্চের গবেষণায় দেখা গেছে, ছানি বা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
চতুর্থত: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণ—টেইলর বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস মস্তিষ্কের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় না। এতে মস্তিষ্কে সময়ের সঙ্গে ক্ষতি জমে।
পঞ্চমত: অ্যালকোহল কমানো—টেইলর বলেন, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন মস্তিষ্কের কোষের জন্য বিষাক্ত এবং কোষ ধ্বংস করে, ফলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ষষ্ঠত: ধূমপান ছাড়া—ধূমপান হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের সঙ্গে যুক্ত। টেইলর বলেন, যা হৃদয়ের জন্য ভালো, তা মস্তিষ্কেরও উপকারে আসে। তাই ধূমপান ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
সপ্তমত: স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা—যুক্তরাজ্যের অ্যালঝেইমার রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫-৬৫ বছর বয়সে স্থূলতা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তিনগুণ বাড়াতে পারে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
অষ্টমত: সক্রিয় থাকা—নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তপ্রবাহ বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তনালীর বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ায় এবং বছরে নিয়মিত শরীরচর্চা মস্তিষ্কের স্মৃতিকেন্দ্রের আকার বাড়াতে পারে।
