স্ট্রোকের পর ক্যাথেটার পদ্ধতিতে জমাট রক্ত সরালে সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে
এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রোকের পর ক্যাথেটার দিয়ে জমাট রক্ত সরালে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ও স্বাধীনতা বাড়ে, শুধু ওষুধে চিকিৎসার চেয়ে।
মূল বিষয়
AIএকটি র্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্ট্রোকের পর ক্যাথেটার পদ্ধতিতে জমাট রক্ত সরালে রোগীদের এক বছর পর সুস্থ হয়ে ওঠা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সম্ভাবনা বাড়ে, শুধু ওষুধে চিকিৎসার তুলনায়। এতে দীর্ঘমেয়াদে মৃত্যুহারও বাড়েনি।
জার্নাল JAMA-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় 'টেসলা' (TESLA) ট্রায়ালের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। এই ট্রায়ালে মস্তিষ্কে বড় আকারের স্ট্রোক হওয়া রোগীদের ক্যাথেটার পদ্ধতিতে জমাট রক্ত অপসারণের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়, যাদের সাধারণত এই চিকিৎসা দেওয়া হয় না, কারণ তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতির পরিমাণ বেশি এবং শিরা খোলার সুফল সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
গবেষণার বিস্তারিত ও চিকিৎসার পদ্ধতি
এই ট্রায়ালে অংশ নেন এমন রোগীদের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ ক্যারোটিড ধমনি বা মধ্য মস্তিষ্কীয় ধমনির প্রধান অংশে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল, যা সাধারণত গুরুতর স্ট্রোকের কারণ হয়। উপসর্গ শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বা সর্বশেষ স্বাভাবিক অবস্থার সময়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়।
গবেষকরা উন্নত প্রযুক্তির পরিবর্তে সাধারণ সিটি স্ক্যান ব্যবহার করে মস্তিষ্কের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেন, যাতে বিভিন্ন হাসপাতালেই এই পদ্ধতি সহজে প্রয়োগ করা যায়।
এক বছর পর ইতিবাচক ফলাফল
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ক্যাথেটার পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও, তা পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখায়নি। তবে এক বছরের ফলোআপে দেখা যায়, এই গ্রুপের রোগীরা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন, যদিও দৈনন্দিন কাজে কিছু সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে।
স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত জীবনমানের দিক থেকেও ক্যাথেটার পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা শুধু ওষুধে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তুলনায় ভালো ফল পান।
প্রস্তাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
গবেষকরা বলেন, তিন মাস থেকে এক বছরের মধ্যে দুই গ্রুপের পার্থক্য বাড়া থেকে বোঝা যায়, বড় ধরনের স্ট্রোকের রোগীরা ধারণার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সুস্থ হতে থাকেন। তাই ৯০ দিনেই চিকিৎসার মূল্যায়ন শেষ করা যথেষ্ট নয়।
তারা আরও বলেন, বড় ধরনের ক্ষতি হওয়া রোগীদের তিন বা ছয় মাসের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও নিবিড় পুনর্বাসন প্রয়োজন হতে পারে।
গবেষকরা আরও ধারণা দেন, বড় ধরনের স্ট্রোকের পরও রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আশপাশের স্নায়ু নেটওয়ার্ক টিকে থাকতে পারে, যা মস্তিষ্ককে নতুনভাবে কাজ শিখতে ও মানিয়ে নিতে সহায়তা করে। তবে 'নিউরোপ্লাস্টিসিটি' বা স্নায়ুর নমনীয়তা বাড়ানোর এই ধারণা আরও গবেষণার দাবি রাখে।
গবেষণার সীমাবদ্ধতা ও আরও গবেষণার প্রয়োজন
গবেষকরা বলেন, সাধারণ সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে বড় ধরনের স্ট্রোকের কিছু রোগীর জন্য ক্যাথেটার পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এক বছরের ফলাফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না, কারণ এই বিশ্লেষণের জন্য মূল অনুমান আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না এবং পরিসংখ্যানগত হিসাবও সংশোধন করা হয়নি।
তারা আরও বলেন, কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন, তাদের নির্ধারণ, বয়স, ক্ষতির পরিমাণ, রক্তনালীর অবস্থান ও রক্তপ্রবাহ ফেরানোর গতি—এসব বিষয়ে আরও বড় গবেষণা করা জরুরি।
