সেবতায় অভিবাসন সংকটে মৃত ৭২ জন, ফেরত যাচ্ছেন অনেকে
স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরক্কো থেকে সেবতায় অভিবাসন সংকটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে পৌঁছেছে, উদ্ধার অভিযান ও ফেরত যাওয়া অব্যাহত।
মূল বিষয়
AIরবিবার স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরক্কো থেকে সেবতা ছিটমহলে অভিবাসীদের ঢলের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রতীর থেকে মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলছে।
সেবতার সরকারি প্রতিনিধি মিগেল আনহেল পেরেস ত্রিয়ানো জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে ৮৮টি মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে, যাদের অনেকের দেহ পচনধারায় রয়েছে।
মরক্কো ও সেবতার সীমান্তে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেছে। দুই সপ্তাহ আগে অনিয়মিত অভিবাসনের ঢল শুরু হলেও এখন সীমান্ত পারাপার স্বাভাবিকভাবে চলছে।
মরক্কোর কর্তৃপক্ষ সীমান্তঘেঁষা ফনিদেক শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ফেরত যাওয়া অভিবাসীদের তাঞ্জা-সহ বিভিন্ন শহরে পৌঁছে দিতে বাসের ব্যবস্থা করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দশ-হাজারের বেশি অভিবাসী সেবতায় প্রবেশের পর স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। তাদের ঢলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল এবং বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে।
সেবতার গভর্নর হুয়ান হেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৬০,০০০, যা অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের সমান। স্পেন সরকার জানিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই দ্রুত ফিরে গেছেন।
অভিবাসীরা পারাপারের সময় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। কেউ কেউ সমুদ্র পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার সাঁতরে আসেন। তাদের ফেরাতে জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও সতর্কতামূলক গুলিরও ব্যবহার করা হয়।
স্পেনের সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের সংগঠনের প্রধান রাশিদ সাবিহি জানান, কিছু অভিবাসী ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ ত্রাখাল সৈকতের ঢেউরোধক বাঁধে হুড়োহুড়িতে প্রাণ হারিয়েছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মানবপাচারকারীদের এই সংকটের জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, পাচারকারীরা বহু তরুণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এদিকে, স্পেনে নিযুক্ত মরক্কোর রাষ্ট্রদূত কারিমা বেনইয়াচ বলেছেন, মরক্কো বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে সীমান্ত পেরোনোর কারণ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, অভিবাসীরা সাধারণত ফনিদেক শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার সাঁতরে সেবতায় পৌঁছান। কেউ কেউ কাছাকাছি বেলিয়োনেশ শহর থেকেও পার হন, যেখানে দূরত্ব তুলনামূলক কম।
