ওমরাহ ও জিয়ারত অতিথিদের সৌদি আরবের আতিথেয়তার প্রশংসা
ওমরাহ ও জিয়ারত কর্মসূচির দ্বিতীয় দফার অতিথিরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকে পাওয়া আতিথেয়তা ও সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মূল বিষয়
AIওমরাহ ও জিয়ারত কর্মসূচির দ্বিতীয় দফার অতিথিদের অনেকেই সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকে পাওয়া আন্তরিক আতিথেয়তা ও সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মক্কায় পৌঁছে ওমরাহ পালন শেষে তাঁরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং জানান, কাবা শরিফ দর্শন ও তাওয়াফ তাঁদের জীবনে এক অসাধারণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
এই দফায় ২৩টি ইউরোপ ও এশিয়ার দেশ থেকে ২৫০ জন ওমরাহযাত্রী অংশ নিয়েছেন। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে সৌদি আরবের ইসলামিক বিষয়ক, দাওয়াত ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাজ্যের ওমরাহযাত্রী সেলিমা পাওয়েল বলেন, ওমরাহ পালন ও মসজিদুল হারামে নামাজ পড়া ইসলামে সমতা ও ভ্রাতৃত্বের সর্বোচ্চ উদাহরণ। তিনি বলেন, বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মুসলিমরা একত্রে ইহরাম পরে ইবাদত করছেন—এটাই মুসলিমদের ঐক্য ও সমতার প্রতীক, আর মর্যাদার ভিত্তি কেবল তাকওয়া ও সৎকর্ম।
আলবেনিয়ার কিলেটন মালি জানান, মদিনা ছেড়ে আসার বেদনা ও প্রথমবার কাবা শরিফ দেখার আনন্দে তাঁর অনুভূতি মিশে গেছে। তিনি বলেন, কাবা শরিফ দেখার মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি—দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত মহিমান্বিত ও আধ্যাত্মিক।
তিনি আরও বলেন, “তাওয়াফের সময় মানুষের ভিড়ে নিজেকে এক অনন্য পরিবেশে আবিষ্কার করি, মনে হচ্ছিল সময় থেমে গেছে, দুনিয়ার সব ব্যস্ততা ভুলে গেছি।”
উত্তর মেসিডোনিয়ার ইব্রাহিম ওজলু জানান, মক্কায় পৌঁছে ওমরাহ পালনের সময় তাঁর হৃদয় আনন্দ ও প্রশান্তিতে ভরে গেছে। তিনি বলেন, “এই ইবাদতের স্বাদ ও প্রশান্তি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি, আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি—এই মুহূর্তগুলো আমার জীবনের অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।”
বুলগেরিয়ার আলতাই কিরিমভ অতিথিদের জন্য দেওয়া সেবার মান ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে ওমরাহ সম্পন্ন করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সেবার মান ছিল চমৎকার—সংবর্ধনা, যাতায়াত, আবাসন, ধর্মীয় ও সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা—সবকিছুই ছিল সুচারু, এতে তাঁরা নির্ভার হয়ে ইবাদত করতে পেরেছেন।
অতিথিরা সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং সৌদি আরব, এর নেতৃত্ব ও জনগণের মঙ্গল কামনা করেন। তাঁরা ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী শেখ ড. আবদুল লতিফ আল শেখকেও ধন্যবাদ জানান, যিনি খাদেমুল হারামাইন হজ, ওমরাহ ও জিয়ারত কর্মসূচির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মসূচির সুচারু আয়োজন ও সেবার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে ওমরাহ পালনের পাশাপাশি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক সফরসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সুযোগ-সুবিধা ও সেবা প্রদান করা হয়েছে।
