সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উদযাপন
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সৌদি আরব ৯৬তম জাতীয় দিবস উদযাপন করছে, ঐক্য ও উন্নয়নের অভিযাত্রা স্মরণে।
মূল বিষয়
AIসৌদি আরবের সরকার ও জনগণ আগামী বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ৯৬তম জাতীয় দিবস উদযাপন করছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের গৌরব আমাদের স্বভাবেই’। এ উপলক্ষে স্মরণ করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুলআজিজ বিন আবদুর রহমান আল সৌদের নেতৃত্বে দেশের ঐক্যের মহাকাব্য এবং গর্ব করা হচ্ছে এমন এক জাতির ওপর, যারা ঐক্য রক্ষা ও পরিচয় সংরক্ষণে দৃঢ়।
এবারের জাতীয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন সৌদি আরব বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। দেশটি তার সুদৃঢ় ঐতিহ্যের ওপর ভর করে ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকে জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
ঐক্যের মহাকাব্য স্মরণ
এই দিনে সৌদি নাগরিক ও প্রবাসীরা স্মরণ করেন বাদশাহ আবদুলআজিজের জীবনগাথা, যিনি বিভক্ত ও আতঙ্কিত আরব উপদ্বীপকে একত্রিত করে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে দেন। তিনি দেশের মানুষকে মহৎ লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ন্যায়, নিরাপত্তা ও অগ্রগতির ভিত্তিতে আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেন।
দারাতুল মালিক আবদুলআজিজ প্রকাশিত জাতীয় দিবসের তথ্য অনুযায়ী, বাদশাহ আবদুলআজিজ ১২৯৩ হিজরি/১৮৭৭ সালে রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রাথমিকভাবে পড়া-লেখা ও কোরআন শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর নেতৃত্বগুণ, দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা তাঁকে সৌদি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সক্ষম করে তোলে।
রিয়াদ পুনরুদ্ধার ও ঐক্যের যাত্রা শুরু
রিয়াদ ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই বাদশাহ আবদুলআজিজ শহরটি পুনরুদ্ধারের কথা ভাবতেন। অবশেষে ১৩১৯ হিজরি/১৯০২ সালে তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে রিয়াদ পুনরুদ্ধার করেন এবং কাসর আল-মাসমাক দখল করেন। এখান থেকেই দেশের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়। এরপর একে একে প্রতিষ্ঠার ধাপ অতিক্রম করে ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৩৫১ হিজরি/১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৩২-এ রাজকীয় ফরমান জারি হয় এবং ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ থেকে রাষ্ট্রের নাম হয় ‘সৌদি আরব’।
আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণ
দেশের ঐক্যের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কাজও চলতে থাকে। বাদশাহ আবদুলআজিজের আমলে বিচারব্যবস্থা সংস্কার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, ১৯৩০ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ১৯৫৩ সালে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ১৯২৬ সালে শিক্ষা উন্নয়নে ‘দারুল মারিফ’ প্রতিষ্ঠা, সরকারি স্কুল খোলা ও বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবার দিকেও তিনি গুরুত্ব দেন। গড়ে তোলেন ‘মাসলাহাতুস সিহহা’ (স্বাস্থ্য বিভাগ), যা ১৯৫১ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিসর বাড়ানো হয় এবং হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানে বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা চালু করা হয়।
সম্পদ ও অবকাঠামো উন্নয়ন
বাদশাহ আবদুলআজিজ ১৯৩৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে দেশের সম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এর ফলে ১৯৩৮ সালে দাম্মামের ৭ নম্বর কূপে তেল আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯৩৯ সালে প্রথম চালান রপ্তানি হয়। কৃষি ও পানিসম্পদ উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, রিয়াদ-দাম্মাম রেলপথ স্থাপন এবং পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও তিনি ভূমিকা রাখেন।
দুই পবিত্র মসজিদের সেবা
দুই পবিত্র মসজিদ ও পবিত্র স্থানগুলোর প্রতি বাদশাহ আবদুলআজিজ বিশেষ যত্ন নেন। তিনি মসজিদুল হারাম সংস্কার, ১৯২৭ সালে কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা স্থাপন, মসজিদুল হারামে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং মসজিদে নববির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন।
জাতীয় দিবস গৌরব ও দেশপ্রেমের প্রতীক, যা সৌদি নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য এক নতুন জাগরণ ও অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি। দেশের অগ্রযাত্রা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমাহীন, যা সৌদি আরবের মর্যাদা ও নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করছে।
