মূল বিষয়বস্তুতে যান
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

মসজিদে নববির ইমামের আহ্বান: গুজবের যুগে খবর যাচাই জরুরি

মসজিদে নববির ইমাম আবদুলবারি আস-সুবাইতি শুক্রবারের খুতবায় হযরত ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনির আলোকে ধৈর্য, ক্ষমা ও গুজব থেকে সতর্ক থাকার শিক্ষা তুলে ধরেছেন।

আজেল বাংলা1 ঘণ্টা আগে · 3 মিনিট পড়া
মসজিদে নববির ইমাম খুতবা দিচ্ছেন

মূল বিষয়

AI

মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুলবারি বিন আওয়াদ আস-সুবাইতি শুক্রবারের খুতবায় হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জামার কাহিনি থেকে ঈমান ও নৈতিকতার নানা শিক্ষা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই কাহিনি ধৈর্য, পবিত্রতা, ক্ষমা ও আল্লাহর কৃপায় দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

শায়খ সুবাইতি আল্লাহর নিরাপত্তা ও ঈমানের জন্য শুকরিয়া জানিয়ে খুতবা শুরু করেন। তিনি মুসলিমদের আল্লাহভীতির উপদেশ দেন এবং বলেন, তাকওয়া মুমিনের পাথেয়, অন্তরের আলো ও ফিতনা থেকে রক্ষার দুর্গ। তিনি কোরআনের উদ্ধৃতি দেন: «وَاتَّقُوا اللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ» (তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দেবেন)।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইউসুফ (আ.)-এর জামা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী: প্রথমে, ভাইয়েরা তাঁকে কূপে ফেলার পর মিথ্যার প্রমাণ; এরপর, আজিজের স্ত্রীর কুমন্ত্রণা থেকে তাঁর পবিত্রতার প্রমাণ; শেষে, পিতা ইয়াকুব (আ.)-এর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুসংবাদ।

তিনি বলেন, কাহিনির শুরুতে রয়েছে প্রজ্ঞা ও আল্লাহর দান রক্ষার শিক্ষা। ইয়াকুব (আ.) ছেলেকে স্বপ্নের কথা ভাইদের না বলতে উপদেশ দেন, যাতে হিংসা না জন্মায়। তিনি বলেন, অন্তরে হিংসা বাসা বাঁধলে সম্পর্ক নষ্ট হয় এবং সবাই যে কাঁদে, সে-ই নির্যাতিত—এ ধারণা ঠিক নয়। বিশেষ করে গুজব ছড়ালে খবর যাচাই ও হুট করে রায় না দেওয়ার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।

ইউসুফ (আ.)-এর কূপ থেকে আজিজের বাড়িতে যাওয়াকে তিনি আল্লাহর পরিকল্পনার দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ফয়সালা নিয়ে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়—অনেক সময় যা খারাপ মনে হয়, তাতেই বড় মঙ্গল লুকিয়ে থাকে।

শায়খ সুবাইতি বলেন, আজিজের বাড়িতে ইউসুফ (আ.)-এর পরীক্ষায় তাঁর তাকওয়া ও পবিত্রতার সত্যতা প্রকাশ পায়, বিশেষত যখন পাপের সুযোগ ছিল। তিনি ফিতনার স্থান এড়িয়ে চলার ও নিজের ধর্ম, জীবন ও সম্মান রক্ষার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ইউসুফ (আ.)-এর সব বিপদ শেষে ক্ষমতা অর্জনে পরিণত হয়। মানুষ অনেক সময় ঘটনার তাৎপর্য পরে বুঝতে পারে। ইউসুফ (আ.) কারাগারেও দয়া ও উপদেশের সুযোগ নেন, যদিও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি কোরআনের উদ্ধৃতি দেন: «إِنَّهُ مَنْ يَتَّقِ وَيَصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ» (যে তাকওয়া অবলম্বন করে ও ধৈর্য ধরে, আল্লাহ তার প্রতিদান নষ্ট করেন না)।

ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের প্রতি তাঁর আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতা অর্জনের পরও তিনি ভাইদের ক্ষমা করেন ও বলেন: «لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ» (আজ তোমাদের কোনো দোষ নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন)। তিনি বলেন, ক্ষমা করা বড় মনের পরিচয় এবং অতীতের ভুল ক্ষমা করলে সংশোধনের পথ খুলে যায়।

ইউসুফ (আ.)-এর জামা পাঠানো ছিল মুক্তি ও পরিবারের পুনর্মিলনের সুসংবাদ। তিনি বলেন, জামা ছিল কেবল বাহ্যিক কারণ, আর আরোগ্য একমাত্র আল্লাহর হাতে। আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শায়খ সুবাইতি বলেন, কাহিনির শেষাংশে ধৈর্য, দৃঢ় বিশ্বাস ও আল্লাহর প্রতি সদ্ভাবনার শিক্ষা রয়েছে। তিনি কোরআনের উদ্ধৃতি দেন: «إِنَّ رَبِّي لَطِيفٌ لِمَا يَشَاءُ» (নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক যা চান, তাতে অতি দয়ালু)। তিনি আল্লাহর অপার পরিকল্পনা ও কৃপা নিয়ে চিন্তা-ভাবনার আহ্বান জানান।

শেষে তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন ইসলাম ও মুসলিমদের মর্যাদা বাড়ান, সৌদি আরবকে শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন, মুসলিম দেশগুলোতে কল্যাণ, শান্তি ও স্থিতি দান করেন, সৌদি নেতৃত্বকে সফল করেন এবং ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করেন।

মন্তব্য (0)