মূল বিষয়বস্তুতে যান
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

বাদশাহর প্রতিনিধি হিসেবে শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষ উদ্বোধন করলেন যুবরাজ

বাদশাহ সালমানের প্রতিনিধি হিসেবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আজ শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।

আজেল বাংলা1 ঘণ্টা আগে · 4 মিনিট পড়া
শুরা কাউন্সিল অধিবেশনে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

মূল বিষয়

AI

বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের প্রতিনিধি হিসেবে, যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আজ শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

যুবরাজ শুরা কাউন্সিল ভবনে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান রিয়াদ অঞ্চলের আমির প্রিন্স ফয়সাল বিন বান্দার, রিয়াদের ডেপুটি আমির প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান এবং শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ ড. আবদুল্লাহ বিন মোহাম্মদ আল শেখ।

এরপর বাজানো হয় জাতীয় সংগীত।

পরে শুরা কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান ড. মিশাল আস-সালামি, সহকারী চেয়ারম্যান ড. হানান আহমেদি, মহাসচিব মোহাম্মদ আল মুতাইরি ও বিভিন্ন কমিটির প্রধানরা যুবরাজের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

যুবরাজ প্রধান মঞ্চে আসন গ্রহণ করলে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে।

এরপর শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বক্তব্য দেন:

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ,

আজ শুরা কাউন্সিলের জন্য একটি গৌরবময় দিন, কারণ আপনি এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বার্ষিক রাজকীয় ভাষণ প্রদান ও নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন। আপনাকে স্বাগত জানাই এবং আপনার পদক্ষেপে বরকত কামনা করি।

শুরা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নেতৃত্বের অব্যাহত সহায়তা পেয়েছে, যা একে দেশের উন্নয়নের অন্যতম স্তম্ভে পরিণত করেছে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর দশম বর্ষে এসে আমরা নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি, যার পেছনে আপনার নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধান রয়েছে।

গত বছর কাউন্সিল ৪৬টি অধিবেশন করেছে এবং ৫৫৫টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন আইন, চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও সরকারি সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাউন্সিল বিভিন্ন পার্লামেন্টারি সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় অনেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

আপনার উপস্থিতি শুরা কাউন্সিলের প্রতি নেতৃত্বের গুরুত্ব ও মর্যাদারই প্রতিফলন। আমি আবারও আপনাকে স্বাগত জানাই এবং বাদশাহ ও আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আল্লাহ আমাদের দেশকে সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা দান করুন।

এরপর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাদশাহ সালমানের পক্ষে বার্ষিক রাজকীয় ভাষণ দেন। ভাষণের মূল অংশ:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

ভাই ও বোনেরা,

বাদশাহর প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর সাহায্যে শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের কার্যক্রম উদ্বোধন করছি। আল্লাহ আমাদের সফল করুন।

আগামী প্রতিষ্ঠা দিবসে আমাদের রাষ্ট্র ৩০০ বছর পূর্ণ করবে। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে আমরা কোরআন ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত, একত্ববাদ ও ন্যায়বিচারকে ধারণ করেছি এবং আমাদের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ অটুট রেখেছি।

আল্লাহ আমাদেরকে দুই পবিত্র মসজিদের সেবা ও দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

ভিশন ২০৩০-এর দশ বছরে ৯৩% লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, যার কৃতিত্ব নাগরিকদের দক্ষতা ও পরিশ্রমে।

২০১৬ সালের তুলনায় অ-পেট্রোলিয়াম রপ্তানি ১৫৫% বেড়েছে, বেসরকারি খাতের অবদান ৫১% হয়েছে, পরিবহন ও লজিস্টিক খাত সরবরাহ চেইনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে।

পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড আগামী পাঁচ বছরের কৌশল বাস্তবায়ন করছে, স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা গড়ে তুলছে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে।

সৌদি আরব ডিজিটাল প্রস্তুতি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা সূচকে বিশ্বে প্রথম, ডিজিটাল গভর্নমেন্টে দ্বিতীয় এবং খনিজ বিনিয়োগে শীর্ষ দশে প্রবেশ করেছে।

২০২৬ সালকে 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বছর' ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে সৌদি আরব এ খাতে বিশ্বনেতৃত্বে এগিয়ে যায়।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মানে স্থবিরতা নয়, বরং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো।

বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি ও সংস্কার আমাদের সংকট মোকাবিলায় সক্ষম করেছে এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় অর্থনীতির নমনীয়তা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রমাণিত হয়েছে।

আমাদের অর্থনৈতিক নীতির মূল লক্ষ্য—জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে।

বেকারত্ব কমাতে মানবসম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে নাগরিকরা কর্মসংস্থানে আরও সুযোগ পান।

আবাসন খাতে সংস্কার বাড়ানো হয়েছে, যাতে নাগরিকদের জন্য আরও বিকল্প তৈরি হয় এবং বাড়ির মালিকানা বাড়ে।

সৌদি আরবের সামরিক ও মানবসম্পদ সক্ষমতা উচ্চ, যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের নিরাপত্তা অবিভাজ্য, আমরা যৌথ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ে কাজ করছি।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোট গঠন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ, এবং বন্ধুপ্রতিম দেশের সহযোগিতার কথা তুলে ধরা হয়।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের সময় সৌদি আরব আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং বহুজাতিক নৌ প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে।

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার বাহিনীর অব্যাহত হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।

ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ইয়েমেন সরকারের প্রতি সমর্থন এবং হুথি মিলিশিয়াদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন এবং যুদ্ধ এড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

আমরা উত্তেজনা কমাতে ও কূটনৈতিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস নয়।

শেষে, দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে আবার জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং যুবরাজকে বিদায় জানানো হয়।

মন্তব্য (0)