কফি চাষে সৌদি আরবে শীর্ষে আসির
আসির অঞ্চলে কফি চাষের ঐতিহ্য ও আধুনিক উদ্যোগের ফলে এটি সৌদি আরবে কফি উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
মূল বিষয়
AIপ্রতি বছর ১ অক্টোবর বিশ্ব কফি দিবসে আসির অঞ্চল উদযাপন করে তাদের কফি চাষের কৃষি ও সামাজিক ঐতিহ্য, যা বিস্তৃত হয়েছে এখানকার পাহাড় ও সোপানজুড়ে। আসিরে কফি চাষ দক্ষিণে ফারশা ও তিহামা কাহতান থেকে শুরু হয়ে উত্তরে বলকরণ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা অঞ্চলের বৈচিত্র্য ও কফিকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক পণ্যে রূপান্তরিত করেছে।
সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসিরে বর্তমানে ২,৪৩,০০০-এর বেশি ফলন্ত কফি গাছ রয়েছে, যেগুলো থেকে বছরে ১৭৫ টনের বেশি খাঁটি কফি উৎপাদিত হয়। ফলে আসির সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৪টি জেলায় নতুন ৬,৩৪,০০০ কফি গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং চাষের পরিধি বেড়ে ৭,০০০ হেক্টারেরও বেশি হয়েছে, যেখানে ১,৪০০টির বেশি সক্রিয় খামার রয়েছে।
কফি চাষে উন্নয়ন ও টেকসই উদ্যোগ
আসিরে কফি চাষ সম্প্রসারণে নানা কর্মসূচি ও উদ্যোগ চলছে, যার লক্ষ্য গাছের সংখ্যা বাড়ানো ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি। এর মধ্যে ২০২৬-২০২৮ সালের মধ্যে 'পর্বত অর্থনীতি' উদ্যোগের আওতায় ১০ লাখ কফি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন ও পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের সহায়তা করবে।
দক্ষিণ আসিরের ফারশা জেলা কফি চাষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেখানে পাহাড়ি গ্রাম ও খামারজুড়ে কফি গাছ ছড়িয়ে আছে। এই চাষ উত্তর দিকে সারা আবিদা, জাহরান আল-জানুব ও রিজাল আলমা পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে ২৮৬টি কফি খামার ও ৬৩,০০০-এর বেশি ফলন্ত গাছ রয়েছে, যা অঞ্চলটির অন্যতম প্রধান কফি উৎপাদন কেন্দ্র।
কফি উৎসব ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড
আসিরে ফসল সংগ্রহের মৌসুমে কফি উৎসব ও কৃষি-ভিত্তিক নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও পর্যটন কর্মকাণ্ড জমে ওঠে। রিজাল আলমায় অনুষ্ঠিত 'সৌদি কফি উৎসব'-এর তৃতীয় আসরে ২০২৬ সালে ৩০ জন কৃষক ও ১৫টি ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণে ১০ টন কফি প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো সৌদি কফির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এক কেজি কফির দাম ওঠে ১,৪০০ সৌদি রিয়াল।
উত্তরে মহাইল আসির ও তার পাহাড়ি এলাকায়ও কফি চাষ টিকে আছে। হাদা, বারকুক, জরাম ও ওয়াদি আল-ঘিলের মতো এলাকায় পুরনো কফি গাছ সংরক্ষিত আছে। এখানকার 'খাইরাত মহাইল আসির' উৎসবে কফি বিপণন ও কৃষি-পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
উৎপাদন চক্র ও সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক গুরুত্ব
পাহাড়ি সোপান থেকে কফির কাপ পর্যন্ত যাত্রায় রয়েছে চাষ, হাতে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, শুকানো, ভাজা ও বিপণন—একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক শৃঙ্খল, যাতে চারা উৎপাদক, কৃষক, ভাজা প্রতিষ্ঠান, ক্যাফে ও পর্যটন প্রকল্প যুক্ত।
সৌদি কফি স্থানীয় সমাজে গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে। ইউনেস্কো ২০২২ সালে খাওলানি কফি চাষের জ্ঞান ও চর্চাকে বিশ্ব অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করেছে, যা এর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মূল্যকে তুলে ধরে। কফি চাষ এখন গ্রামীণ সমাজে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
বিশ্ব কফি দিবসে আসির তাদের কফি চাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, যা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষি, পর্যটন ও বিনিয়োগের সমন্বয়ে সৌদি কফিকে জাতীয় পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে।
