সৌদি ও ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে অংশীদারিত্ব জোরদার ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান ও ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আলোচনা করেছেন।
মূল বিষয়
AIসৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান ও ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং তা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি, ইয়েমেন ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
ইয়েমেনের বার্তা সংস্থা 'সাবা'র বরাতে জানা যায়, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের ভ্রাতৃত্ব, প্রতিবেশী সম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
ফয়সাল বিন ফারহান ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল, সরকার ও জনগণের প্রতি সৌদি আরবের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইয়েমেনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি আরব সবসময় পাশে থাকবে।
ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা ইয়েমেনের নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের অবিচল ভ্রাতৃসুলভ অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে ইয়েমেনের রাষ্ট্র ও জনগণকে সহায়তা করে যাচ্ছে, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও মানবিক দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৈঠকে ইয়েমেনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবে অবস্থানরত ইয়েমেনি প্রবাসীদের জন্য সৌদি সরকারের নানা সুবিধা ও সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই প্রবাসীরা ইয়েমেনি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং দেশের লক্ষাধিক পরিবারের প্রধান সহায়ক। হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাপের মুখে এই সহায়তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দুই মন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার, সৌদি কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইয়েমেনি কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম আরও উন্নত ও সমন্বিত হবে বলে আশা করা হয়।
বৈঠকে হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলা ও তার প্রভাব, বিশেষ করে ইয়েমেন, সৌদি আরব ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের ওপর হুমকি নিয়ে আলোচনা হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায়ও আলোচনায় আসে।
ইয়েমেনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনার ওপর হুথি হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব হামলা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও জনগণের স্বার্থের জন্য হুমকি।
তিনি আরও বলেন, ইয়েমেন কখনোই তার ভূখণ্ড বা সামুদ্রিক পথকে সৌদি আরব, প্রতিবেশী দেশ কিংবা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ আঞ্চলিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, কোনোভাবেই হুমকি বা চাঁদাবাজির হাতিয়ার নয়।
ইয়েমেনি মন্ত্রী আরও বলেন, হুথি গোষ্ঠীর হামলা ইয়েমেনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং বিশেষ করে মোখা বন্দরের ওপর হামলা সরাসরি ইয়েমেনি জনগণের স্বার্থ ও সম্পদের ওপর আঘাত। এটি যুদ্ধের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা এবং বাব আল-মানদেবের কাছের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ইয়েমেনি শহর, বন্দর ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা অভিন্ন এবং এসব রক্ষায় শক্তিশালী রাষ্ট্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা অপরিহার্য।
ড. জুবা সৌদি আরবের পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ হুমকি মোকাবিলায় সৌদি নেতৃত্বের উদ্যোগ ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বহুজাতিক নৌ প্রতিরক্ষা জোটে ইয়েমেনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ যৌথ নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনি রাষ্ট্রকে সমর্থন ও সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়ালে এই প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলে ইয়েমেনের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হবে।
X-এ টুইটটি দেখুন
