মূল বিষয়বস্তুতে যান
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

১৭৫ দেশে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের সৌদি মানবিক সহায়তা

সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৭৫টি দেশে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজির স্থাপন করেছে।

আজেল বাংলা2 ঘণ্টা আগে · 3 মিনিট পড়া
সৌদি আরবের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের চিত্র

মূল বিষয়

AI

সৌদি আরবের মানবিক সহায়তার ইতিহাস দেশটির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিস্তৃত, যেখানে দান, সহানুভূতি ও সহযোগিতার মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে। যেকোনো সংকটে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় সৌদি আরবের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। এ পর্যন্ত দেশটি ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে এবং ১৭৫টি দেশে ৮,৯৯৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দাতা দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। মানবিক সহায়তা এখানে কেবল পরিস্থিতি নির্ভর নয়, বরং এটি একটি স্থায়ী মূল্যবোধ, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে।

এই সফলতার পেছনে রয়েছে সৌদি নেতৃত্বের আন্তরিক সমর্থন ও মনোযোগ, যার ফলে আন্তর্জাতিক মানবিক অঙ্গনে সৌদি আরবের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। জাতিসংঘের আর্থিক ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম (FTS) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদি আরব মানবিক ও ত্রাণ সহায়তায় বিশ্বে দ্বিতীয় এবং আরব বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনে মানবিক সহায়তায় দেশটি ৪৯.৩% অবদান রেখে শীর্ষে রয়েছে, যা সৌদি আরবকে সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই ধারাবাহিকতায় ১৩ মে ২০১৫ সালে বাদশাহ সালমানের নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় 'কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্র'। কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১১৩টি দেশে ৪,৪২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার মোট ব্যয় ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, পরিবেশ, আশ্রয়সহ বিভিন্ন খাতে এই সহায়তা পৌঁছেছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে, কোনো বৈষম্য ছাড়াই।

ইয়েমেন এই সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশীদার। সেখানে ১,২১৯টি মানবিক ও ত্রাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪ বিলিয়ন ৭৮৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'মাসাম' প্রকল্প, যা ইয়েমেনের ভূমি থেকে ৫৮৫ হাজারের বেশি মাইন অপসারণে সহায়তা করেছে, ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মারিব প্রদেশে শুরু হওয়া 'কাফাক' প্রকল্পের মাধ্যমে সংঘাত-প্রবণ শিশুদের পুনর্বাসন ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

গাজা উপত্যকায় চলমান সংকটে সৌদি আরবের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। কিং সালমান কেন্দ্র সেখানে প্রতিদিন ২৪,০০০ গরম খাবার বিতরণ করছে, বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য। এছাড়া, শিক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প, ৮৪টি বিমান ও ৮টি জাহাজে ৭,৭৫০ টনের বেশি খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে এবং ৯০.৩৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে। জর্ডানের সহযোগিতায় আকাশপথে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে, যাতে সীমান্ত বন্ধ থাকলেও সহায়তা পৌঁছে যায়।

সিরিয়ায় ৫২৩টি প্রকল্পে ৫৮৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি, পাকিস্তানে ৩৫৩টি প্রকল্পে ২২৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি, সুদানে ২৭৯টি প্রকল্পে ১৯২ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং লেবাননে ৭৩টি প্রকল্পে ৯২ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে জরুরি সহায়তার নানা খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সৌদি আরবের চিকিৎসা সহায়তার অন্যতম দৃষ্টান্ত 'সৌদি সংযুক্ত যমজ শিশুদের অপারেশন কর্মসূচি', যা ১৯৯০ সালে শুরু হয়। এ পর্যন্ত ২৮টি দেশের ১৫৮টি কেস মূল্যায়ন ও ৭২টি সফল অপারেশন হয়েছে। অপারেশন, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, পরিবহন ও থাকার সব খরচ সৌদি সরকার বহন করে।

এছাড়া, কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন কর্মসূচির মাধ্যমে আহতদের অঙ্গ সংযোজন, পুনর্বাসন ও স্থানীয় জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে।

সৌদি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমও মানবিক সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিং সালমান কেন্দ্র ১,৪৩৫টি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি পরিচালনা করেছে, যেখানে ৮৪ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়েছেন এবং ৫৯টি দেশে ২.৮ মিলিয়নের বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা দল ২৭০ হাজারের বেশি অপারেশন করেছে, যা সরাসরি রোগীদের কষ্ট লাঘবে ভূমিকা রেখেছে।

এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে, 'সৌদি শ্রবণ' কর্মসূচির আওতায় তুরস্কের রেইহানলিতে ১৪ ঘণ্টায় ৪২টি কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে সৌদি স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম। এতে সিরিয়ান শিশুদের নতুন করে শুনতে ও যোগাযোগ করতে সহায়তা হয়েছে।

প্রতি বছর ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিক সহায়তা দিবসে সৌদি আরব তার সীমাহীন মানবিক কার্যক্রম স্মরণ করে, যা সংকটকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রোগীদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালানো এবং স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে মানবিক মর্যাদা রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মন্তব্য (0)