রিয়াদে আন্তর্জাতিক বাজে বিশ্বখ্যাত সোকর উৎপাদনকারী খামারসমূহের মিলনমেলা
রিয়াদের উত্তরে মুলহামে জাতীয় সোকর কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাজে বিশ্বের নানা দেশের সোকর উৎপাদনকারী খামার ও তাদের বিশেষ পদ্ধতির পরিচয় মিলছে।
মূল বিষয়
AIআন্তর্জাতিক সোকর উৎপাদনকারী খামারগুলোর এই বাজে শুধু সোকর প্রদর্শন ও বিক্রির গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। রিয়াদের উত্তরে মুলহামে জাতীয় সোকর কেন্দ্রের এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খামার ও তাদের নিজস্ব উৎপাদন কৌশল, বংশ ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি একত্রিত হয়েছে। এতে খামারগুলোর করিডোরগুলো রূপ নিয়েছে সোকর ও তাদের উৎপাদন-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক অনন্য মঞ্চে।
এখানে প্রদর্শিত সোকরের মধ্যে রয়েছে জিয়ার, শাহিন, হুর এবং বিভিন্ন সংকর জাত। উৎপাদক ও সোকরপ্রেমীরা সোকর কেনার ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য খোঁজেন। দৌড় প্রতিযোগিতার সোকরের ক্ষেত্রে বংশ, গতি, ফিটনেস ও পূর্বপুরুষদের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সোকরের ক্ষেত্রে আকৃতি, রং, মাথা, ডানা ও বুকের সামঞ্জস্যসহ আরও কিছু বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করেন অভিজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক খামারগুলোর অংশগ্রহণে স্পষ্ট হয়েছে বৈচিত্র্যময় উৎপাদন পদ্ধতি। যেমন, পর্তুগিজ একটি খামার তাদের ছানাগুলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রবল বাতাসের পাহাড়ে ছেড়ে দিয়ে 'ওয়াইল্ড হ্যাকিং' পদ্ধতি অনুসরণ করে, যাতে প্রশিক্ষণের আগে সোকরের ফিটনেস গড়ে ওঠে। অন্যদিকে, ইউরোপের কিছু খামার দৌড়ের জন্য বিশেষ উৎপাদন লাইন তৈরি করে, যেখানে বাবা-মা ও ভাইবোনের ফলাফলকে গুরুত্ব দেয়া হয়।
এছাড়া, কানাডা, ফিনল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের উৎপাদন লাইন ছাড়াও বহু বছর ধরে নিজেদের জাত উন্নয়নে কাজ করা খামারগুলোর সোকরও এখানে রয়েছে। স্থানীয় খামারগুলোও আন্তর্জাতিক উৎপাদক ও সোকরপ্রেমীদের সঙ্গে একত্রে সোকর তুলনা ও চাহিদার প্রবণতা বোঝার সুযোগ নিচ্ছে।
এই বৈচিত্র্যের মূল্য শুধু জাতের নামে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি সোকর তার উৎপাদনকারী খামার, লালন-পালন পদ্ধতি ও নির্বাচিত বৈশিষ্ট্যের গল্প নিয়ে আসে। ফলে এই বাজে বিভিন্ন উৎপাদন পদ্ধতির মিলনস্থল হয়ে উঠেছে, যার লক্ষ্য একটাই—বিক্রির পর প্রতিযোগিতায় নিজেদের উৎকর্ষ প্রমাণে সক্ষম সোকর উৎপাদন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সোকর উৎপাদনকারী খামারগুলোর এই বাজ প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত।
