অক্টোবর 2026-এ সৌদি আকাশে শনি, উল্কাবৃষ্টি ও চাঁদের বিরল সংযোগ
২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে সৌদি আরবের আকাশে দেখা যাবে শনি-সূর্য বিরল সংযোগ, উল্কাবৃষ্টি ও চাঁদের সঙ্গে গ্রহের সংযোগসহ নানা মহাজাগতিক দৃশ্য।
মূল বিষয়
AI২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে সৌদি আরবের আকাশে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা দেখা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে শনি গ্রহের সূর্যের বিপরীতে অবস্থান, চাঁদের সঙ্গে মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের সংযোগ এবং উল্কাবৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা, যা জ্যোতির্বিদ্যা অনুরাগীদের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণের সুযোগ এনে দেবে।
জেদ্দা জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী মাজেদ আবু জাহারা জানান, ৪ অক্টোবর শনি গ্রহ সূর্যের বিপরীতে অবস্থানে পৌঁছাবে, তখন পৃথিবী প্রায় তাদের মাঝখানে থাকবে। এ সময় শনি সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে উদিত হবে এবং পুরো রাতজুড়ে দৃশ্যমান থাকবে। এই সময়ে পৃথিবী ও শনির দূরত্ব হবে প্রায় ১.২৬ বিলিয়ন কিলোমিটার। খালি চোখে শনি হলুদাভ উজ্জ্বল বস্তু হিসেবে দেখা যাবে, আর ছোট টেলিস্কোপে শনির বলয় ও কিছু উপগ্রহও দেখা যাবে, কারণ এ বছর বলয়গুলোর কোণ আরও খোলা থাকবে।
চাঁদ ও গ্রহের সংযোগ
আবু জাহারা জানান, ৫ অক্টোবর চাঁদ মঙ্গল গ্রহের কাছাকাছি আসবে এবং ৬ অক্টোবর চাঁদ বৃহস্পতির কাছে পৌঁছাবে। বিশ্বের কিছু অঞ্চলে বৃহস্পতির চাঁদের আড়ালে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে, আবার কিছু স্থানে শুধু ঘনিষ্ঠ সংযোগ দেখা যাবে, যা নির্ভর করবে ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর।
তিনি আরও জানান, ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর মঙ্গল গ্রহ কর্কট নক্ষত্রপুঞ্জের বিখ্যাত 'মধুচক্র' নক্ষত্রগুচ্ছের মধ্যে অবস্থান করবে। এটি দূরবীন বা ছোট টেলিস্কোপে দেখা যাবে এবং মঙ্গলের কক্ষপথগত চলাচলের কারণে অবস্থান পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাবে। মাসের শেষ দিকে শুক্র গ্রহ ভোরের আকাশে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিগন্তের নিচু অংশে।
উল্কাবৃষ্টি ও রাতের অন্যান্য ঘটনা
উল্কাবৃষ্টি প্রসঙ্গে আবু জাহারা জানান, ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টি ৬ থেকে ১০ অক্টোবর সক্রিয় থাকবে এবং ৮ ও ৯ অক্টোবর রাতে সর্বোচ্চ হবে। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে পাঁচটি উল্কা দেখা যেতে পারে এবং এ বছর পর্যবেক্ষণের জন্য পরিস্থিতি ভালো থাকবে। এছাড়া, দক্ষিণ টাউরিড উল্কাবৃষ্টি সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে, যার বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বল অগ্নিগোলকের মতো উল্কা। এর মূল শিখর নভেম্বরের শুরুতে।
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ২১-২২ অক্টোবর রাতে সর্বোচ্চে পৌঁছাবে, তখন প্রতি ঘণ্টায় ২০টি উল্কা দেখার সম্ভাবনা থাকবে। তবে চাঁদের আলো ম্লান উল্কা দেখায় কিছুটা বাধা সৃষ্টি করতে পারে। রাতের শেষ ভাগ পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
অন্ধকার রাতগুলোতে পেগাসাস নক্ষত্রপুঞ্জ, আন্দ্রোমিডা ছায়াপথ (যা পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ লাখ আলোকবর্ষ দূরে) এবং প্লেইয়াডিস বা 'সাত বোন' নক্ষত্রগুচ্ছ (যার দূরত্ব ৪০০ আলোকবর্ষের কিছু বেশি) দেখা যাবে। শহরের আলো থেকে দূরে থাকলে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গাও দেখা সম্ভব।
পূর্ণিমা ও পর্যবেক্ষণ পরামর্শ
২৬ অক্টোবর পূর্ণিমা হবে, যাকে ঐতিহ্যগতভাবে 'শিকারির চাঁদ' বলা হয়, যদিও এতে কোনো বিশেষ ভৌত পরিবর্তন ঘটে না। আবু জাহারা বলেন, এসব মহাজাগতিক দৃশ্যের বেশিরভাগই খালি চোখে দেখা সম্ভব, তবে পর্যবেক্ষণের জন্য অন্ধকার ও মেঘমুক্ত স্থান বেছে নেওয়া এবং চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অন্তত ২০ মিনিট সময় দেওয়া উচিত।
