সৌদি যুবরাজের ফ্রান্স সফর শেষে যৌথ বিবৃতি
সৌদি যুবরাজ ও ফরাসি প্রেসিডেন্টের যৌথ বিবৃতিতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার ও আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
মূল বিষয়
AIসৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ২৩ ও ২৪ আগস্ট ২০২৬-এ প্যারিস সফর শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।
দুই দেশের নেতারা আলোচনায় সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের শতবর্ষ পূর্ণ হয়েছে। যৌথভাবে তারা আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারিত্ব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
কৌশলগত অংশীদারিত্ব পরিষদ ও নতুন উদ্যোগ
যুবরাজ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট সৌদি-ফরাসি কৌশলগত অংশীদারিত্ব পরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে নতুন কিছু উদ্যোগের সূচনা করেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান
- আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইরান: উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন। তারা ইরানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
- হরমুজ প্রণালী: দুই দেশ জাহাজে হামলা ও জলপথে হুমকির নিন্দা জানিয়ে, কোনো বাড়তি ফি বা বিধিনিষেধ ছাড়াই স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
- ফিলিস্তিন ইস্যু: উভয় দেশ হামাসের নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবাহের ওপর গুরুত্ব দেন এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্তে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
- লেবানন: দুই দেশ লেবাননে রাজনৈতিক সমাধান ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার পক্ষে মত দেন। তারা লেবানন সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
- ইয়েমেন: উভয় পক্ষ ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল ও জাতিসংঘের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জাহাজে হুথিদের হামলার নিন্দা করেন।
- সুদান ও সিরিয়া: দুই দেশ সুদানের সংকট নিরসনের গুরুত্ব এবং সিরিয়ার ঐক্য ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন জানান। তারা সৌদি-সিরিয়া-ফ্রান্স যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা
দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে একটি ঘোষণা গ্রহণ করেন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন, যেখানে ২০২৫ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তারা জ্বালানি, তেল, পেট্রোকেমিক্যাল, নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক শক্তি, ক্লিন হাইড্রোজেন, জলবায়ু ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ফ্রান্সের সারজি পন্তোয়াজে ৬ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগে একটি বৈশ্বিক গন্তব্য উন্নয়নে কাদিয়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বাগত জানানো হয়। ফরাসি প্রকল্পে অর্থায়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য আর্থিক কাঠামো গঠনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়।
সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও এক্সপো ২০৩০-এ সহযোগিতা
উভয় দেশ আল উলা-তে সহযোগিতার গুরুত্ব ও ২০৩৫ সাল পর্যন্ত অংশীদারিত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা প্যারিসে ই-স্পোর্টস বিশ্বকাপের সফল আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং রিয়াদে এক্সপো ২০৩০-এ ফ্রান্সের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
