জাতিসংঘ: বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেছেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং রাজনৈতিক ও মানবিক নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
মূল বিষয়
AIজাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক বলেছেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পেতে সৌদি আরবের উদ্যোগ সংলাপের সুযোগ তৈরি করছে, উত্তেজনা কমাচ্ছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করছে।
সৌদি বার্তা সংস্থা (এসপিএ)-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডুজারিক বলেন, ফ্রান্স ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় করা হয়েছে। নিউইয়র্ক ঘোষণার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ডুজারিক বলেন, এই সমর্থনকে টেকসই ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় সমর্থন
জাতিসংঘের মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দুই রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা, যা দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে। আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ডুজারিক বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ ও দখলদারিত্ব থেকে সরে আসা জরুরি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক টেকসইতা পুনরুদ্ধার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মানবিক ও উন্নয়নমূলক ইস্যুতে সৌদি আরবের অবদান
ডুজারিক বলেন, গাজা সংকট নিরসনে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, টেকসইভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, পুনর্গঠন এবং ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি শাসনব্যবস্থার পথ তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীর, যার মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমও রয়েছে, এগুলোকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা দরকার।
গত দুই বছরে সৌদি আরব জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজন করেছে বলে ডুজারিক উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের মরুকরণবিরোধী কনভেনশনের (COP16) পক্ষের সম্মেলন, ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম, জাতিসংঘ শিল্পোন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্মেলন, বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সাধারণ সভা, আন্তর্জাতিক খনিশিল্প সম্মেলন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্মেলন ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ উদ্যোগ।
ভবিষ্যতের সম্মেলন ও প্ল্যাটফর্মে প্রশংসা
ডুজারিক বলেন, আগামী দিনে সৌদি আরব আরও বড় কিছু আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজন করবে—এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের নভেম্বরে বিশ্ব তথ্য ফোরাম, ২০২৭ সালে বিশ্ব পানি ফোরাম, ২০৩০ সালে রিয়াদ এক্সপো এবং ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব বহু-পক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম চালুতে অবদান রেখেছে, যেমন ২০২০ সালে জি-২০ সভাপতিত্বের সময় গঠিত ডিজিটাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন এবং ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব পানি সংস্থা।
মানবিক কর্মকাণ্ডে সৌদি আরবের ভূমিকা
ডুজারিক জানান, সৌদি আরব বৈশ্বিক পর্যায়ে অন্যতম বৃহৎ দাতা দেশ। ২০২৩ সালে দেশটি তার মোট সরকারি উন্নয়ন সহায়তার ৯৪% সরাসরি প্রায় ৫.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে—এ তথ্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়। তিনি বলেন, সংকটে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংহতিকে বাস্তব সহায়তায় রূপান্তর করা জরুরি।
সাক্ষাৎকারের শেষে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র সৌদি আরবের কূটনৈতিক ও শান্তি প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ এবং মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপ, শান্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব আরও ফলপ্রসূ হবে।
