মূল বিষয়বস্তুতে যান
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পূর্ণ বক্তব্য

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সৌদি আরবের অবস্থান তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আজেল বাংলা1 ঘণ্টা আগে · 6 মিনিট পড়া
জাতিসংঘে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বক্তব্য দিচ্ছেন

মূল বিষয়

AI

আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের পূর্ণ পাঠ নিচে দেওয়া হলো:


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত মহামান্যগণ,
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও মহাসচিব,
প্রিয় অতিথিবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রথমেই, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানাই এবং তার সফলতা কামনা করি। একইসঙ্গে, ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি আনালিনা বেয়ারবকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তার অবদানের জন্য।


জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের নিরলস প্রচেষ্টার জন্যও আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
মান্যবর সভাপতি, এই অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্ব ও বহুপাক্ষিক কাঠামো অভূতপূর্ব ও দ্রুত পরিবর্তনশীল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশ্বজুড়ে চলমান সংকট ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ধরে রাখা, শান্তি-নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।


মান্যবর সভাপতি, সংকটের মূল কারণ সম্পদ বা সুযোগের অভাব নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মত নীতিমালার প্রতি প্রতিশ্রুতির অভাব। সৌদি আরব ও এ অঞ্চলের দেশগুলো ইরানের বর্বর হামলার শিকার হয়েছে, যা আমাদের নিরাপত্তা, সম্পদ ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেছে। সৌদি আরব তার নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, নাগরিক ও অভ্যন্তরীণ সম্পদের সুরক্ষার পূর্ণ অধিকার পুনর্ব্যক্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছে।


আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা গোটা অঞ্চল ও বিশ্বের নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।


মান্যবর সভাপতি, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সবার যৌথ দায়িত্ব। এজন্য আন্তর্জাতিকে কার্যকর সহযোগিতা দরকার, যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ঝুঁকিতে না পড়ে। সৌদি আরব আন্তর্জাতিক জলপথ, বিশেষত হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালী, লোহিত সাগর ও আদেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় হরমুজ প্রণালী ফিরিয়ে আনা, কোনো অতিরিক্ত ফি বা বিধিনিষেধ আরোপ না করা এবং এসব জলপথকে কোনো পক্ষের চাপ, হুমকি বা ক্ষতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


মান্যবর সভাপতি, এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তোলা আধিপত্য, প্রভাব বিস্তার বা সংকটের সুযোগ নেওয়ার ওপর নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, অভিন্ন স্বার্থ, সুসম্পর্ক, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইনের প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে। এ প্রেক্ষাপটে, সৌদি আরব উত্তেজনা কমাতে কাতার, পাকিস্তানসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর উদ্যোগকে সমর্থন করে, যা সংলাপ ও কূটনীতির পরিবেশ তৈরি করবে। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যেকোনো ব্যবস্থা যেন সর্বজনীন, কার্যকর ও টেকসই হয় এবং হুমকি ও অস্থিতিশীলতার উৎস চিহ্নিত করে। পাশাপাশি, অঞ্চলকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক তদারকি ও নিশ্চয়তার আওতায় আনা জরুরি, যাতে আস্থা ও আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বজায় থাকে।


মান্যবর সভাপতি, গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের চলমান দুর্ভোগ, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি বা ভূমির বাস্তবতা পরিবর্তনের সব প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে এবং জোর দিয়ে বলে, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি কেবল দুই-রাষ্ট্র সমাধান ও ১৯৬৭ সালের সীমান্তে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্ভব।

সৌদি আরব ইয়েমেনে রাজনৈতিক সমাধান, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহায়তার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছে এবং ইয়েমেনকে ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। ২০২৫ সালে ইয়েমেনকে সর্বোচ্চ মানবিক সহায়তা প্রদানকারী দেশ ছিল সৌদি আরব।


এ প্রেক্ষাপটে, সৌদি আরব নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিকে স্বাগত জানায়, যেখানে হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সৌদি আরব ও বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হুথি গোষ্ঠীর সব ধরনের অপরাধ ও লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে নৌ চলাচল হুমকির নিন্দা জানাতে আহ্বান জানায়।


সুদানের স্থিতিশীলতা, একতা, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষণ জরুরি। সংকটের সমাধান হতে হবে সুদানিদের মধ্যেই, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও একতা রক্ষা করবে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহকে সমর্থন দেবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও মানবিক দুর্ভোগ কমাবে।


সৌদি আরব সিরিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়, যা দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়নের পথ সুগম করবে। একইসঙ্গে, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো লঙ্ঘনের বিরোধিতা করে।


লেবাননের বৈধ রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান, তাইফ চুক্তি বাস্তবায়ন, অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রাখা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি আরব তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।


ইরাকের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য সৌদি আরব সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। ইরাকি সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা জানায়, যা নিরাপত্তা, স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রাখার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাক যেন হামলার উৎস না হয়, তা নিশ্চিত করবে।


মান্যবর সভাপতি, ভিশন ২০৩০ ঘোষণার ১০ বছর পর সৌদি আরব যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা জাতীয় রূপান্তরের একটি মডেল। অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, মানবসম্পদে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং টেকসই উন্নয়ন—সবকিছুই এই ভিশনের অংশ। এতে সৌদি আরব ব্যবসা, বিনিয়োগ, পর্যটন, শিল্প, প্রযুক্তি ও লজিস্টিকের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে অ-পেট্রোলিয়াম খাতের অবদান জিডিপিতে ৫৫% এবং ২০২৬ সালে সৌদি নাগরিকদের বেকারত্বের হার ৬.৪%-এ নেমে এসেছে, যেখানে ২০১৬ সালে ছিল ১২.৩%।


জ্বালানি নিরাপত্তা নির্ভর করে শক্তিশালী ও নমনীয় জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর, যা সংকট মোকাবিলা ও অভিযোজন সক্ষম। জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, সরবরাহ পথ বৈচিত্র্য এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যৌথ দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো বিনিয়োগের ফলে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ও অঞ্চলবহির্ভূত পেট্রোলিয়াম মজুদ বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ নির্ভরতা বাড়িয়েছে।


সৌদি আরব মনে করে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু কর্মসূচি পরস্পর সম্পূরক। তাই, কোনো জ্বালানি উৎসকে বাদ না দিয়ে, বাস্তবসম্মত ও সর্বজনীন রূপান্তর পথ অনুসরণ জরুরি, যাতে জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে যায়। এ কারণে সৌদি আরব বিশ্বে সবচেয়ে কম কার্বন ও মিথেন নিঃসরণকারী দেশগুলোর একটি।


সৌদি আরব আরও দক্ষ ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, কার্বন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি, কার্বন ধরার, ব্যবহারের, সংরক্ষণের ও অপসারণের উদ্যোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উদ্ভাবন ও পরিচ্ছন্ন হাইড্রোজেনসহ টেকসই জ্বালানি উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং টেকসিয় উন্নয়নে সহায়তা করবে।


অঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যেও সৌদি আরব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। দেশের পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম উপকূলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে স্থানান্তর করেছে, শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য। চলমান সংকটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর খুলে দিয়ে সৌদি আরব মানবিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করেছে।


বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে, সৌদি আরব মনে করে, এসব প্রযুক্তি মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য ব্যবহার জরুরি এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার। এ লক্ষ্যে, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতা কেন্দ্র গড়ে তুলেছে, যা 'মিথ্যাক ভবিষ্যত' সনদের সুপারিশ। এছাড়া, ইউনেসকোর তত্ত্বাবধানে রিয়াদে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ও নৈতিকতা কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নৈতিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।


সবশেষে, আমাদের বিশ্বকে এখন সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা, দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতা দরকার। বর্তমান চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ একা মোকাবিলা করতে পারবে না। জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললেই কেবল নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্ভব। সৌদি আরব আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন, শান্তিপূর্ণ সংকট সমাধান ও আস্থা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাবে।"

মন্তব্য (0)