মূল বিষয়বস্তুতে যান
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

ওষুধ উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার সিমুলেশনের সম্ভাবনা

সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষের প্রধান ড. হিশাম আল-জাদাই বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার সিমুলেশন ওষুধ উন্নয়ন দ্রুততর ও রোগীদের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে সহায়ক।

আজেল বাংলা1 ঘণ্টা আগে · 2 মিনিট পড়া
ওষুধ উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনে সৌদি প্রতিনিধি

মূল বিষয়

AI

সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ড. হিশাম বিন সাদ আল-জাদাই বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার সিমুলেশন ওষুধ উন্নয়ন দ্রুততর করার এবং ক্লিনিক্যাল গবেষণার দক্ষতা বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এতে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়, যা নীতিনির্ধারণে সহায়তা করে এবং বিশেষ করে বিরল রোগের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা রোগীদের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়।

এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে ড. জাদাই এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি কোরিয়ার খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় আয়োজন করে, যেখানে বিশ্বের নানা দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ড. জাদাই "কম্পিউটার সিমুলেশনভিত্তিক ক্লিনিক্যাল গবেষণা" শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন। "ওষুধ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রবণতা ও ব্যবহারিক কৌশল" শীর্ষক সেশনে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার সিমুলেশন ওষুধ উন্নয়নে পরিবর্তন এনেছে। এতে ক্লিনিক্যাল গবেষণা দ্রুত হয়, নীতিনির্ধারণে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ জোরদার হয়, রোগীদের ওপর চাপ কমে, আবার গুণগত মান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বজায় থাকে।

তিনি বলেন, বিরল রোগের চিকিৎসা উন্নয়নে এসব প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত ক্লিনিক্যাল গবেষণা করা কঠিন—রোগীর সংখ্যা কম এবং অংশগ্রহণকারী পাওয়া কঠিন। কম্পিউটার সিমুলেশন প্রচলিত গবেষণার পরিপূরক হতে পারে, গবেষণার নকশা উন্নত করতে পারে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে কিছু অংশের বিকল্প হতে পারে, ফলে চিকিৎসা দ্রুত রোগীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ এই পরিবর্তনের সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলছে। এর মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের ওষুধের জন্য "নাদির" কর্মসূচি, ক্লিনিক্যাল উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারবিষয়ক নির্দেশিকা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার জন্য "সেল" ল্যাব প্রতিষ্ঠা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব প্রযুক্তি থেকে সুফল পেতে হলে প্রাপ্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, গুণগত মান, মডেল যাচাই, স্বচ্ছতা, মানবিক তত্ত্বাবধান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় জরুরি।

সেশনে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, ওষুধ ও বায়োলজিক্যাল পণ্যের নিয়ন্ত্রণ, নীতিনির্ধারণে সহায়তা, যোগাযোগের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন, ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা, যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্পেনের ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য সংস্থা এবং ব্রাজিলের জাতীয় স্বাস্থ্য তদারকি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই জোটে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল থেকে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ যোগ দিয়েছে। এতে সংস্থাটি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে পারছে, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে এবং নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা দ্রুত রোগীদের কাছে পৌঁছাতে ভূমিকা রাখছে।

এই জোটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানরা সদস্য। এর লক্ষ্য হলো সহযোগিতা, সমন্বয়, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটে একযোগে কাজ করা। এতে ওষুধ ও টিকার নিরাপত্তা, গুণগত মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত হয় এবং উদ্ভাবন ও নতুন চিকিৎসা দ্রুত অনুমোদনের পথ সুগম হয়।

মন্তব্য (0)