শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা
প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চতুর্থ স্তরের আচরণগত সমস্যা প্রতিরোধে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মূল বিষয়
AIপ্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চতুর্থ স্তরের আচরণগত সমস্যা প্রতিরোধে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক স্তরে চতুর্থ স্তরের আচরণগত সমস্যার মধ্যে রয়েছে: ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে অবমাননা বা উপহাস, রাষ্ট্র বা এর প্রতীক নিয়ে অবমাননা, যৌন হয়রানি, বিদ্যালয়ের ভেতর আগুন জ্বালানো, সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বহন ও ধূমপান, ধারালো অস্ত্র (যেমন ছুরি) বহন, সব ধরনের সাইবার অপরাধ, সমকামিতার প্রতীক, ছবি বা প্রচার, সব ধরনের বুলিং, নিষিদ্ধ ছাপা, অডিও বা ভিডিও মিডিয়া বহন বা প্রদর্শন।
এই ধরনের আচরণ সংশোধনে নেওয়া হবে: শিক্ষার্থীকে স্কুল প্রশাসনে পাঠানো, অভিভাবককে ডেকে এনে বিষয়টি ব্যাখ্যা ও আচরণ সংশোধনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা, পরিবারকে যুক্ত করে যৌথ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি, শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার, অভিভাবকের স্বাক্ষর, ইতিবাচক আচরণের নম্বর থেকে ১০ নম্বর কাটা এবং তা পুনরুদ্ধারের সুযোগ, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা চাওয়া, শিক্ষার্থীকে কাউন্সেলরের কাছে পাঠানো এবং স্কুলের গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত দ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো।
এছাড়া, শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক শিক্ষার্থীকে অন্য স্কুলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। স্থানান্তরের সময় অভিভাবকের মতামত নেওয়া হবে। যদি অভিভাবক রাজি না হন, তাহলে শিক্ষার্থীকে তার বাসার নিকটবর্তী স্কুলে পাঠানো হবে। নতুন স্কুলে কাউন্সেলর শিক্ষার্থীর জন্য আচরণ সংশোধনের সেশনসহ বিশেষ কর্মসূচি দেবেন। কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের উপস্থিতিতে শৃঙ্খলা ও ভালো আচরণের লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হবে এবং কাউন্সেলর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চতুর্থ স্তরের আচরণগত সমস্যা হলে প্রথমবারে প্রথম ধাপের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পুনরাবৃত্তি হলে পরবর্তী ধাপের ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
এই স্তরে সমস্যার মধ্যে রয়েছে: ইচ্ছাকৃতভাবে সহপাঠীকে আঘাত করা (হাত বা ভোঁতা বস্তু দিয়ে, যাতে জখম, রক্তপাত বা হাড় ভাঙা হয়), সহপাঠী বা স্কুলের সম্পদ চুরি, শিক্ষার্থীদের ছবি বা অডিও রেকর্ডিং, স্কুলের যন্ত্রপাতি বা ভবনে ইচ্ছাকৃত ক্ষতি (কম্পিউটার, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্র, ল্যাব, বাস), স্কুলে ধূমপান, পালিয়ে যাওয়া, বিপজ্জনক বস্তু বা খেলনা (আতশবাজি, গ্যাস স্প্রে, রাসায়নিক) আনা, নিষিদ্ধ ছাপা, অডিও বা ভিডিও মিডিয়া প্রদর্শন বা বিতরণ।
এই ক্ষেত্রে প্রথম ধাপের ব্যবস্থা: স্কুল প্রশাসন শিক্ষার্থীকে ছাত্র নির্দেশনা কমিটিতে পাঠাবে, সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবককে ডেকে এনে আচরণ পুনরাবৃত্তি হলে পরিণতি ব্যাখ্যা, আচরণ সংশোধনের পরিকল্পনা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি, শিক্ষার্থীর লিখিত অঙ্গীকার, পুনরাবৃত্তি হলে অন্য স্কুলে স্থানান্তরের সতর্কতা, অভিভাবকের স্বাক্ষর, ইতিবাচক আচরণ থেকে ১০ নম্বর কাটা ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা চাওয়া, ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প ব্যবস্থা, নিষিদ্ধ বস্তু বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস, এবং কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত।
এছাড়া, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হবে এবং কাউন্সেলর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা দেবেন। দ্বিতীয় ধাপে, প্রথম ধাপের সব ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে, শুধু শ্রেণি পরিবর্তন বাদে। কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে এবং অধিদপ্তরের পরিচালক শিক্ষার্থীকে অন্য স্কুলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেবেন (দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মে)। স্থানান্তরের সময় অভিভাবকের মতামত নেওয়া হবে।
যদি অভিভাবক রাজি না হন, শিক্ষার্থীকে তার বাসার নিকটবর্তী স্কুলে পাঠানো হবে। নতুন স্কুলে শিক্ষার্থীকে আচরণ সংশোধনের সুযোগ ও নম্বর পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হবে এবং অভিভাবককে জানানো হবে। নতুন স্কুলের কাউন্সেলর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা দেবেন।
সব ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে আহত শিক্ষার্থীকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে রেড ক্রিসেন্টকে ডাকা হবে। কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবককে জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে অবহিত করা ও ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি ঘটনাটি নির্যাতন বা অবহেলার মতো গুরুতর হয়, তাহলে ১৯১৯ নম্বরে রিপোর্ট করা হবে।
