সৌদি আন্তর্জাতিক বাজ ও শিকার মেলায় দর্শনার্থীদের নতুন অভিজ্ঞতা
২০২৬ সালের সৌদি আন্তর্জাতিক বাজ ও শিকার মেলায় দর্শনার্থী, প্রদর্শক ও বাজপ্রেমীরা নানা নতুন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যার মধ্যে ছিল ফ্রি ফটোশুট, উন্নত আয়োজন ও সহজ চলাচল।
মূল বিষয়
AI২০২৬ সালের সৌদি আন্তর্জাতিক বাজ ও শিকার মেলায় দর্শনার্থী, প্রদর্শক ও বাজপ্রেমীরা নানা নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফ্রি ফটোশুট থেকে শুরু করে বাজ অঞ্চলের উন্নত ব্যবস্থাপনা ও প্যাভিলিয়নের মধ্যে সহজ চলাচল—সবকিছুই তাদের নজর কেড়েছে। দর্শনার্থীরা বলছেন, এ বছর নানা ধরনের কার্যক্রম ছিল, পরিবারগুলো উপভোগ করেছে বৈচিত্র্য, প্রদর্শকরা দেখেছেন আয়োজনের অগ্রগতি ও যোগাযোগের সুযোগ, আর বাজপ্রেমীরা প্রশংসা করেছেন তাদের অঞ্চলের সুশৃঙ্খলতা। এসব অভিজ্ঞতা মেলাটিকে আনন্দ, জ্ঞান ও পেশাদার যোগাযোগের এক মিলনমেলায় পরিণত করেছে, যা মেলার মূল স্লোগান ‘সবার জন্য গন্তব্য’কে বাস্তবে তুলে ধরেছে।
দর্শনার্থী আবদুল্লাহ আল-মুতাইরি, যিনি পরিবার নিয়ে এসেছিলেন, জানান, ফ্রি ফটোশুট ছিল তার জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয়। নির্ধারিত স্থানে উঠে তিনি দারুণ কিছু ছবি তুলেছেন। বাজ, সংরক্ষণ এলাকা ও গাড়ির প্যাভিলিয়নগুলো তার বিশেষ আগ্রহের বিষয় ছিল। বৈচিত্র্যময় প্রদর্শনী ও কার্যক্রম, উন্নত ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে তার পরিবারের জন্য ছিল সমৃদ্ধ ও উপভোগ্য এক ভ্রমণ।

স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান ‘ইউরো ফ্যালকনারি’র প্রতিনিধি গিয়েরমো গারি বলেন, মেলার মান ও সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এখানে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য আরও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, ধারাবাহিক উন্নতি মেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় আশা জাগায়।
বাজ অঞ্চলে বাজপ্রেমী মাশারি আল-রাশিদি জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সুশৃঙ্খল আয়োজন। তিনি প্রশংসা করেন বাজ অঞ্চলের সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। ‘নোভা ফ্যালকন’ ফার্ম থেকে ৩২টি মঙ্গোলিয়ান সাকার বাজ ও ৪৪টি জাইরি পিউর বাজ আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আরও উন্নতি ও সাফল্যের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল-হাদিরা’ কোম্পানির বিক্রয় ব্যবস্থাপক ও প্যাভিলিয়ন প্রধান ইসলাম মাহরুস বলেন, এ বছর মেলার আয়োজন ও দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। দর্শনার্থীর সংখ্যা তার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল। উন্নত ব্যবস্থাপনা প্রদর্শক ও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে এবং শিকার ও বাজপ্রেমীদের জন্য মেলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে।
কাতারের ‘ভিটা ফার্ম’ কোম্পানির প্যাভিলিয়ন প্রধান হাসান ওমর জানান, উন্নত সরঞ্জাম, সহজ চলাচল ও সুশৃঙ্খল আয়োজন তার সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, মেলার আয়োজকরা প্রতি বছর নতুন সংযোজন ও উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছেন, যা প্রশংসনীয়।

সিরিয়ান দর্শনার্থী মোহাম্মদ ওবাইদ বলেন, অঞ্চল ও প্যাভিলিয়নের সুন্দর বিন্যাস, বৈচিত্র্য ও আকর্ষণীয় মূল্য তাকে মুগ্ধ করেছে। আরামদায়ক পরিবেশ ও নানা কার্যক্রমে তিনি উপকৃত ও আনন্দিত হয়েছেন, যা তার অভিজ্ঞতাকে আরও মূল্যবান করেছে।
এসব মতামত থেকে স্পষ্ট, মেলায় কার্যক্রমের বৈচিত্র্য, উন্নত ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগের সুযোগ দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে। জাতীয় বাজ কেন্দ্রের উদ্যোগে রিয়াদ প্রদর্শনী ও সম্মেলন কেন্দ্রে ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মেলায় বাজ, শিকার, অ্যাডভেঞ্চার, ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক নানা অভিজ্ঞতা মিলেছে, যা ‘সবার জন্য গন্তব্য’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
