‘মিথ্যা চন্দ্রগ্রহণ’ শব্দটি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়: জেদ্দা জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি
জেদ্দা জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি বলেছে, ‘মিথ্যা চন্দ্রগ্রহণ’ শব্দটি বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল; সঠিক নাম ‘শব-ছায়া চন্দ্রগ্রহণ’।
মূল বিষয়
AIজেদ্দা জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি জানিয়েছে, কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক লেখায় ‘মিথ্যা চন্দ্রগ্রহণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলত চাঁদের শব-ছায়া চন্দ্রগ্রহণ বোঝাতে বলা হয়। ভাষাগতভাবে শব্দটি বোধগম্য হলেও, কারণ এই ধরনের গ্রহণ এতটাই মৃদু যে খালি চোখে চাঁদের আলোর পরিবর্তন বোঝা কঠিন, বৈজ্ঞানিক দিক থেকে ‘মিথ্যা চন্দ্রগ্রহণ’ শব্দটি সঠিক নয়।
‘ফ্লকিয়া জেদ্দা’ তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঠিক নাম ‘শব-ছায়া চন্দ্রগ্রহণ’, কারণ এটি এই মহাজাগতিক ঘটনার প্রকৃতি ও কার্যপ্রণালী স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন পূর্ণিমার সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে এবং চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করে। এই ছায়া দুটি ভাগে বিভক্ত: কেন্দ্রীয় ছায়া ও শব-ছায়া, যেখানে শব-ছায়া হচ্ছে বাইরের ও অপেক্ষাকৃত হালকা অংশ।
সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মাজেদ আবু জাহরা বলেন, শব-ছায়া চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে পৃথিবীর শব-ছায়ার মধ্যে দিয়ে যায়, কিন্তু কেন্দ্রীয় ছায়ায় প্রবেশ করে না। এতে চাঁদের আলো কিছুটা কমে যায়, যা খালি চোখে বিশেষ করে দুর্বল গ্রহণের ক্ষেত্রে বোঝা কঠিন।
আবু জাহরা আরও বলেন, চাঁদের আলোর এই মৃদু পরিবর্তন মানে এই নয় যে ঘটনাটি অবাস্তব। শব-ছায়া চন্দ্রগ্রহণ একটি বাস্তব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা, যার নির্দিষ্ট জ্যামিতি রয়েছে এবং এর শুরু ও শেষের সময় নির্ভুলভাবে হিসাব করা যায়। এটি চন্দ্রগ্রহণের প্রধান তিনটি ধরনের একটি—শব-ছায়া চন্দ্রগ্রহণ, আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ও পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ।
তিনি সতর্ক করেন, ‘মিথ্যা’ শব্দটি ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, কারণ এতে মনে হতে পারে ঘটনাটি আসল চন্দ্রগ্রহণ নয়। অথচ ‘শব-ছায়া চন্দ্রগ্রহণ’ শব্দটি চাঁদ কোন অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং কেন তার আলো কমে যাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝায়। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য প্রকাশে সঠিক বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার এই সময়ে।
এক্স-এ পোস্টটি দেখুন
