রিয়াদে দুই বছরে অর্ধশত কোটি গণপরিবহন যাত্রী
রিয়াদের গণপরিবহন নেটওয়ার্ক চালুর পর দুই বছরের কম সময়ে প্রায় ৫০ কোটি যাত্রী পরিবহন করেছে। সৌদি আরব পরিবহন খাতে বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তি পরীক্ষাও চালিয়ে যাচ্ছে।
মূল বিষয়
AIরিয়াদ শহরের গণপরিবহন নেটওয়ার্ক চালুর পর দুই বছরেরও কম সময়ে প্রায় অর্ধশত কোটি যাত্রী পরিবহন করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব পরিবহন খাতে বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তি পরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন ও ট্রাক এবং বৈদ্যুতিক জাহাজ। পাশাপাশি, অবকাঠামো প্রকল্পে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বাড়ানো হচ্ছে।
রিয়াদে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ২৫তম বিশ্ব জ্বালানি সম্মেলনের এক আলোচনাসভায় সৌদি আরবের উপপরিবহন ও লজিস্টিকস মন্ত্রী ড. রুমাইহ বিন মোহাম্মদ আল-রুমাইহ এসব তথ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এতে জ্বালানি, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের দায়িত্বশীল ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
রিয়াদ মেট্রো নেটওয়ার্কে রয়েছে ৮৫টি স্টেশন। পাশাপাশি, এখানে এমন বাস নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা বিদ্যুৎ ও প্রচলিত জ্বালানির সংমিশ্রণে চলে। রুমাইহ জানান, রিয়াদ মেট্রো একসঙ্গে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেট্রো নেটওয়ার্ক। তিনি বলেন, গণপরিবহনে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে, যা শহরে যাতায়াতের ধরনে পরিবর্তন এনেছে—যদিও আগে ধারণা করা হয়েছিল, বাসিন্দারা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপরই নির্ভরশীল থাকবেন।
হাইড্রোজেন পরীক্ষা ও জ্বালানি বৈচিত্র্য
রুমাইহ বলেন, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৩০% আসে এই খাত থেকে। তিনি জানান, কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিভিন্ন পরিবহন মাধ্যম ও তাদের কার্যক্রমের উপযোগী নানা প্রযুক্তি ও সমাধান দরকার।
এই লক্ষ্যে, সৌদি আরব কঠিন পরিবেশে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরীক্ষা করেছে, যাতে প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা যায়। একইভাবে, হাইড্রোজেনচালিত ট্রাক ও বৈদ্যুতিক জাহাজও পরীক্ষা করা হয়েছে, পরিবহন খাতে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য বাড়াতে।
রুমাইহ বলেন, বিমান ও নৌপরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো সবচেয়ে কঠিন, কারণ এগুলোর জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত অবকাঠামো এবং দীর্ঘ যাত্রার জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি দরকার।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের পরিবহন সমাধান তৈরিতে জ্বালানির সহজলভ্যতা, খরচ, নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করা জরুরি। তিনি সতর্ক করেন, বিশ্বব্যাপী একক জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা ঝুঁকি ও ব্যয় বাড়াতে পারে। তাই, জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য পরিবহন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করে।
২০৬০ সালের মধ্যে নিট শূন্য নির্গমন
পরিবহন প্রযুক্তি উন্নয়নের এই উদ্যোগ সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভের আওতায় ২০৬০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নির্গমন অর্জনের লক্ষ্য পূরণের অংশ। রুমাইহ জানান, জাতীয় পরিবহন ও লজিস্টিকস কৌশলে বিমান, নৌ, রেল, সড়ক ও স্থল পরিবহন খাতে নানা উদ্যোগ রয়েছে, যা পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে খাতটির ভূমিকা বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নানা চ্যালেঞ্জ ও সংকটের মধ্যেও মানুষ ও পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকে। এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দর, বন্দর, সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবহন প্রকল্প ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে রুমাইহ জানান, সৌদি আরব প্রকল্পের ধরন ও আর্থিক-কারিগরি চাহিদা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের নানা মডেল অনুসরণ করছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বন্দর খাতে নির্মাণ, পরিচালনা ও মালিকানা হস্তান্তর (BOT) চুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তির ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। বিমানবন্দর খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, যার মধ্যে মদিনা বিমানবন্দর রয়েছে। পাশাপাশি, তায়েফ, কাসিম ও আবহা বিমানবন্দরের প্রকল্পও বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত।
রুমাইহ জানান, আবহা বিমানবন্দর প্রকল্প চূড়ান্ত বরাদ্দের পর্যায়ে পৌঁছেছে। রেল খাতেও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে অংশীদারিত্ব বাড়ানো হচ্ছে।
স্থল পরিবহন খাতে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে, যার আওতায় আন্তঃনগর বাস নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে ইজারা চুক্তিতে।
উপমন্ত্রী জানান, পরিবহন প্রকল্পে তিন ধরনের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করছে মন্ত্রণালয়: সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্প (সরকারি সহায়তা থাকতে পারে) এবং সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে প্রকল্প।
