জেদ্দায় ‘প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল সড়ক’ নামে নতুন নামকরণ
জেদ্দার বিখ্যাত কর্নিশ সড়কের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল সড়ক’ রাখা হয়েছে, তাঁর অবদান ও উন্নয়নে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ।
মূল বিষয়
AIজেদ্দা সিটি কর্পোরেশন শহরের বিখ্যাত ‘কর্নিশ সড়ক’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল সড়ক’ করেছে। এই সড়কটি উত্তরে কর্নিশ আবহর সড়ক থেকে দক্ষিণে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর জাতীয় অবদান, অঞ্চল ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা এবং আধুনিকায়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই নামকরণ করা হয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তাঁর নামকরণ মক্কা অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর অবদান ও নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানাতে এবং সৌদি ভিশন 2030-এর লক্ষ্য অনুযায়ী নগর উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন ও জীবনমান বৃদ্ধির অংশ হিসেবে করা হয়েছে।
প্রিন্স খালিদ বিন ফয়সাল বিন আবদুলআজিজ সৌদি আরবের প্রশাসনিক ও নগর উন্নয়নের অগ্রগামী ব্যক্তিত্বদের একজন। মক্কা অঞ্চলের গভর্নর হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন হয়েছে, যা ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও নগর গুরুত্বের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নামকরণটি এমন সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব ২৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দিবসটি দেশের ঐক্য, গৌরব ও অর্জনের স্মরণে পালিত হয়।
প্রিন্স খালিদ বিন ফয়সাল বিন আবদুলআজিজের নামকরণে জাতীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। তিনি কেবল উন্নয়নের নেতা নন, বরং দেশের অন্যতম প্রধান কবি ও সাহিত্যিক, যাঁর সাহিত্যকর্মে জাতীয় চেতনা ও পরিচয় ফুটে ওঠে।
এই নামকরণ তাঁর জাতীয় ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা এবং সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে একত্রিত করেছে, যা জেদ্দার অন্যতম প্রধান সড়ক হিসেবে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশ করে।
জেদ্দার মেয়র ইহসান বিন আব্বাস বাফাকিহ প্রিন্স খালিদকে ‘উন্নয়নের প্রকৌশলী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, জেদ্দার প্রশাসনিক, উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতিতে তাঁর অবদান অনন্য।
তিনি আরও বলেন, প্রিন্স খালিদের তত্ত্বাবধানে মক্কা অঞ্চলে অবকাঠামো, সমুদ্রতীর উন্নয়ন, সড়ক ও পানি নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন হয়েছে। 2022 সালে জেদ্দা প্রকল্প অফিসকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হিসেবে রূপান্তরেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
মেয়র আরও জানান, প্রিন্স খালিদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে 2017 সালে জেদ্দাকে বিশ্বমানের শহরে রূপান্তরের আহ্বান এবং 2026 সালে ‘প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ রয়েছে, যা শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।
‘প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল সড়ক’ প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা ‘শাতি’ ও ‘মারজান’ এলাকায় বিস্তৃত। সড়কটি সমুদ্রতীর ঘেঁষে, নানা হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা এবং ‘জেদ্দা কর্নিশ সার্কিট’-এর মতো বিনোদন কেন্দ্রের পাশ দিয়ে গেছে, যা এর বহুমুখী ব্যবহার ও গুরুত্বকে তুলে ধরে।
এটি জেদ্দার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্কের অংশ, যা ‘সারি’, ‘হাররা’, ‘প্রিন্স নাইফ’ সড়ক ও ‘সালাম’ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে যাতায়াত সহজ হয়েছে।
সড়কটি সমুদ্রতীর, আবাসিক, পর্যটন ও বিনোদন এলাকাগুলোর সঙ্গে যুক্ত এবং শহরের অর্থনৈতিক ও নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নতুন নামকরণ জেদ্দার নগর পরিচয় ও স্মৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নাম সংরক্ষণ এবং শহরের প্রধান স্থাপনা ও সড়কে তাঁদের অবদানকে তুলে ধরার অংশ।
এটি শহরের পরিচয় গঠনে প্রধান সড়ক ও করিডোরগুলোর গুরুত্ব এবং বিশেষ করে সমুদ্রতীরবর্তী ও পর্যটন-অর্থনৈতিক এলাকার সঙ্গে সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
জেদ্দা সিটি কর্পোরেশন নগর সড়ক ও করিডোর উন্নয়ন, নগর দৃশ্যমানতা ও চলাচলের মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, যা নগর উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিচ্ছে।
