মূল বিষয়বস্তুতে যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

সৌদি আরবের রূপান্তরের দশক: বদলে গেছে মানুষের জীবন

গত দশকে সৌদি আরবের পরিবর্তন শুধু বড় প্রকল্প বা অর্থনীতিতেই নয়, ছুঁয়েছে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন—বাড়ি, কাজ, লেনদেন, বিনোদন, স্বেচ্ছাসেবা ও প্রযুক্তিতে।

আজেল বাংলা1 ঘণ্টা আগে · 2 মিনিট পড়া
সৌদি আরবে আধুনিক জীবন ও প্রযুক্তির পরিবর্তন

মূল বিষয়

AI

গত দশ বছরে সৌদি আরবে যে পরিবর্তন এসেছে, তা শুধু বড় প্রকল্প বা অর্থনৈতিক সূচকে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ছড়িয়ে পড়েছে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের নানা খুঁটিনাটিতে—বাড়ি, চাকরি, লেনদেন, বিনোদন, স্বেচ্ছাসেবা ও প্রযুক্তিতে।

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে, ভিশন ২০৩০ শুরুর পর সৌদি আরব কতটা বদলেছে, তার স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে—যা মাত্র এক দশকের মধ্যেই ঘটেছে।

ভিশন ২০৩০ ঘোষণার সময় সৌদি পরিবারের বাড়ির মালিকানা ছিল ৪৭ শতাংশ, যা বেড়ে ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্য ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

কর্মসংস্থানে, সৌদি নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ ২২.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩৬.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ভিশনের মূল লক্ষ্য ছিল ৩০ শতাংশ, যা আগেভাগেই ছাড়িয়ে যাওয়ায় নতুন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪০ শতাংশ।

একই সঙ্গে, সৌদি নাগরিকদের বেকারত্বের হার ১২.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ৭.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভিশনের ৭ শতাংশ লক্ষ্যের কাছাকাছি।

আর্থিক লেনদেনে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৫ সালে সৌদি আরবে মোট খুচরা লেনদেনের ৮৫ শতাংশই হয়েছে ইলেকট্রনিক পেমেন্টে। এক বছরে ১৪.৬ বিলিয়ন ইলেকট্রনিক লেনদেন হয়েছে, যা দৈনন্দিন কেনাকাটার ধরন বদলে দিয়েছে।

সামাজিক অংশগ্রহণেও এসেছে বিপুল অগ্রগতি। ২০১৬ সালে স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা ছিল ৩৪,০৪০, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১৭ লাখ ছাড়িয়েছে। ভিশন ২০৩০-এর বার্ষিক ১০ লাখ স্বেচ্ছাসেবীর লক্ষ্য কয়েক বছর আগেই ছাড়িয়ে গেছে।

বিনোদন খাতে, ভিশন ঘোষণার সময় সৌদি আরবে কোনো বাণিজ্যিক সিনেমা হল ছিল না। ২০১৮ সালের এপ্রিলেই প্রথম সিনেমা হল চালু হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৫টি স্থানে ৬৩৬টি স্ক্রিন চালু হয়েছে, যেখানে মোট আসন ৬৩,৫১৭টি।

ডিজিটাল জগতেও এসেছে পরিবর্তন। বর্তমানে সৌদি আরবে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৯৯.৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি গ্রহণের হার ৪৫.২ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

এই দৈনন্দিন পরিবর্তনের পেছনে সৌদি অর্থনীতিতেও এসেছে ব্যাপক রূপান্তর। ২০২৫ সালে অ-তেল খাতের অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পর্যটন, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, ক্রীড়াসহ নানা খাত সম্প্রসারিত হয়েছে।

গত কয়েক বছরের তুলনামূলক চিত্র বলছে, সৌদি আরবের রূপান্তর শুধু পরিকল্পনা বা বড় প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বাড়ি কেনা, চাকরি, লেনদেন, বিনোদন, স্বেচ্ছাসেবা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো দৈনন্দিন জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এক দশকের কম সময়ে নতুন খাত তৈরি হয়েছে, পুরোনো খাত প্রসারিত হয়েছে, আর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ধারা বদলে গেছে। কিছু অভ্যাস, যা কয়েক বছর আগেও ছিল অচেনা, এখন সৌদি জীবনের স্বাভাবিক অংশ।

দশ বছরে সৌদি আরবে জীবনের অনেক দিক বদলে গেছে। ২০৩০ সালের পথে এগিয়ে চলা দেশটি ইতোমধ্যে বড় রূপান্তরের সাক্ষী, আর সামনে রয়েছে আরও অগ্রগতির সুযোগ।

মন্তব্য (0)