জাজানে সৌদি কফি উৎপাদনে নজরকাড়া প্রবৃদ্ধি
জাজান অঞ্চলে কফি উৎপাদন টেকসইভাবে বাড়ছে, কৃষকদের জন্য বিনিয়োগ ও অর্থায়ন কর্মসূচির ফলে সৌদি কফির বাজার ও সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
মূল বিষয়
AIজাজান অঞ্চলে এক মিলিয়নের বেশি ফলন্ত কফি গাছ রয়েছে, যেগুলো প্রতি বছর ৬৫০ টনের বেশি খাঁটি কফি উৎপাদন করে। তিন শতাধিক বছরের পুরনো কৃষি ঐতিহ্যের ওপর ভর করে এই প্রবৃদ্ধি ঘটছে। কফি উৎপাদন ও এর অর্থনৈতিক মূল্য বাড়াতে নানা ধরনের সহায়তা ও অর্থায়ন কর্মসূচি চালু হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বিপণন ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রতি বছরের ১ অক্টোবর বিশ্ব কফি দিবস উপলক্ষে কফি জাজানের পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। পাহাড়ি এলাকার কৃষক সমাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কফি চাষ ও পরিচর্যার জ্ঞান ধরে রেখেছে এবং ঐতিহ্যবাহী সিঁড়ি-আকৃতির কৃষিজমি সংরক্ষণ করেছে।
সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মসূচি
২০১৩ সালে দায়ের জেলায় কফি উৎসব শুরু হওয়া এই খাতের পরিচিতি ও বিপণন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১৬ সালে কৃষকদের সহায়তা, কফি চারা রোপণ ও বিতরণ, কৃষিজমির উন্নয়ন এবং সেচ ও উৎপাদন পদ্ধতি আধুনিকায়নে কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়, এতে চাষের পরিমাণ ও কফির মান উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
২০২২ সালে এই ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়, যখন ইউনেস্কো সৌদি কফি চাষ সংক্রান্ত জ্ঞান ও চর্চাকে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এতে কফি চাষ, ফসল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণে প্রজন্মান্তরের কৃষি দক্ষতার স্বীকৃতি মেলে।
কফি সমবায় ও আধুনিক বিনিয়োগ
ওই বছরই জাজানে প্রতিষ্ঠিত হয় সৌদি আরবের প্রথম কফি চাষ বিষয়ক সমবায়, যার লক্ষ্য কৃষকদের সহায়তা, উৎপাদনের মানোন্নয়ন, বিপণন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো। সমবায়ের সেবা পেয়েছেন ২,৩০০-এর বেশি কৃষক ও উপকারভোগী, ৮৫০ জনের বেশি অংশীদার এবং ১৫০ জনের বেশি নারী। এছাড়া ১৫টির বেশি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে।
এ খাতের উন্নয়নে জাজান অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন তহবিল জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সৌদি কফি খাতে ৬০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের বেশি অর্থায়ন হয়েছে, যা গ্রামীণ কৃষিপণ্যের জন্য নির্ধারিত তহবিলের অংশ।
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিস্তার
জাজানে কফির গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয়; প্রতিটি গাছ এই অঞ্চলের স্মৃতি বহন করে, আর সিঁড়ি-আকৃতির জমিতে জমা হয়েছে বহু প্রজন্মের অভিজ্ঞতা। ফসল সংগ্রহের মৌসুমে মানুষের সঙ্গে মাটির সম্পর্ক নতুনভাবে ফুটে ওঠে। ঐতিহ্য ও আধুনিক উন্নয়নের সমন্বয়ে জাজান অঞ্চলে সৌদি কফির মান ও বাজারমূল্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমেই বাড়ছে।
