প্রতি বছর ৩ লাখ মৃত্যু, ডুবে যাওয়া রোধে উপদেশ দিল উপসাগরীয় স্বাস্থ্য পরিষদ
বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ৩ লাখের বেশি মানুষ ডুবে মারা যায় বলে জানিয়েছে উপসাগরীয় স্বাস্থ্য পরিষদ। দুর্ঘটনার প্রথম মুহূর্তেই দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা জরুরি।
মূল বিষয়
AI
উপসাগরীয় স্বাস্থ্য পরিষদ জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রতি বছর ৩ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পরিষদটি বলেছে, দুর্ঘটনার প্রথম মুহূর্তেই দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া প্রাণ বাঁচাতে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিষদটি আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে সবার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং না ভেবে-চিন্তে পানিতে ঝাঁপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং, দড়ি, ভাসমান বল বা লাঠির মতো সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে নিরাপদে টেনে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করার পর ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ডুবে যাওয়া ব্যক্তির সাড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করতে হবে—নাম ধরে ডাকুন বা কাঁধে হালকা চাপ দিন, পাশাপাশি বুকের ওঠানামা ও শ্বাসের শব্দ খেয়াল করুন।
পরিষদ জানিয়েছে, যদি দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নিচ্ছেন, তবে তাঁকে দ্রুত নিরাপদ অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে এবং চিকিৎসা দল আসা পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আর যদি শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকে, তাহলে দ্রুত জরুরি সহায়তা চাইতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) শুরু করতে হবে—৩০ বার টানা বুক চেপে ধরা, এরপর ২ বার মুখে মুখে শ্বাস দেওয়া। প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার বুক চেপে ধরা চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নিতে শুরু করেন বা চিকিৎসা দল এসে পৌঁছায়।
এক্স প্ল্যাটফর্মে টুইটটি দেখুন
সাঁতারের সময় নিরাপত্তা ও সতর্কতার নির্দেশনা
উপসাগরীয় স্বাস্থ্য পরিষদ ডুবে যাওয়ার ঘটনা কমাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
পানির ধারে শিশুদের ওপর সর্বক্ষণ নজরদারি ও তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা।
বাড়ির সুইমিং পুল ও জলাধারের চারপাশে নিরাপত্তা বেড়া দেওয়া।
শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সমুদ্রসৈকত ও সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা।
পানিতে সহজে দেখা যায় এমন উজ্জ্বল রঙের সাঁতারের পোশাক পরা, যাতে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
