সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্রথম প্রতিরক্ষা ‘ওবায়ী নজরদারি’
সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় ওবায়ী নজরদারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা— বললেন সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-মন্ত্রী।
মূল বিষয়
AIসৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংখ্যা স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-মন্ত্রী ড. আবদুল্লাহ আসিরি বলেছেন, ওবায়ী নজরদারি ব্যবস্থা এবং এর ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্রথম প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা শুরু হয় রোগের প্রকোপ ছড়ানোর আগেই— প্রতিরোধ, পূর্বাভাস এবং রোগের ধরণে যেকোনো পরিবর্তন বা নতুন রোগ শনাক্তের মাধ্যমে।
তিনি এসব কথা বলেন কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌদি স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও সচেতনতা সমিতির বার্ষিক সম্মেলনে, যার প্রতিপাদ্য ছিল ‘সীমাহীন স্বাস্থ্য’। সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
আসিরি বলেন, জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাদান ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি, সংকটকালে সঠিক তথ্য প্রচার এবং জনগণকে ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি, যাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং আতঙ্ক না ছড়ায়।
তিনি সৌদি আরবের মধ্যপ্রাচ্য রেসপিরেটরি সিনড্রোম (MERS) মোকাবিলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, যা ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল। তখন থেকে রোগ শনাক্তকরণ, বাছাই ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। আসিরি বলেন, সংক্রামক রোগ কোনো সীমান্ত মানে না— তাই দ্রুত রোগী শনাক্ত, আইসোলেশন, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন জরুরি।
ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ
আসিরি বলেন, ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা— যেখানে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধও বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ-সংক্রামক রোগবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা ড. লামিয়া মাহমুদ বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসার সংক্রান্ত গাইডলাইন হালনাগাদে সংস্থা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তথ্যের ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি, দেশগুলোকে স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়ন ও জনবল প্রশিক্ষণে সহায়তা দেয়।
লামিয়া জানান, অ-সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়— শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, বাণিজ্যসহ বহু খাতের অংশগ্রহণ দরকার।
স্বাস্থ্য উন্নয়নে খাতসমূহের সমন্বয়
স্বাস্থ্যনীতিতে বিভিন্ন খাতের ভূমিকা নিয়ে এক আলোচনায় সৌদি স্বাস্থ্য পরিষদের জাতীয় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যনীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ড. ফাদিয়া বিনতে সালেহ আল-হাজরান বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য উন্নয়ন সবার যৌথ দায়িত্ব। স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও মূল্যায়নে খাতসমূহের সমন্বয় জরুরি।
এদিকে, সৌদি স্বাস্থ্য বীমা কর্তৃপক্ষের সহকারী মহাসচিব ড. ইব্রাহিম আল-জাফালি জানান, দেশে বর্তমানে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ রয়েছে। এর বাইরে হজ, ওমরা, ভ্রমণ ও পর্যটনে আগত আরও লাখো মানুষ এ সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিরোধমূলক সেবা বীমা সুবিধার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভূমিকা বাড়ানো ও প্রতিরোধে জোর দিলে হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।
এ প্রসঙ্গে ড. নাইফ বিন আবদুল্লাহ আল-আমরি, ড. সুলায়মান হাবিব মেডিকেল গ্রুপের আল-নারজিস সেন্টারের পারিবারিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের পরামর্শক এবং মেডিকেল ডিরেক্টর, বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি খাতও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ ধারণায় শিক্ষা, খাদ্য, নগর পরিকল্পনা ও আবাসন খাতও অন্তর্ভুক্ত।
আমরি জানান, সৌদি আরবে গড় আয়ু ৭৪ বছর থেকে বেড়ে ৭৬.৯ বছরে পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, এটি শুধু আয়ু বাড়ানোর নয়, বরং জীবনমান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত উদ্যোগের ফল।
