মূল বিষয়বস্তুতে যান
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

জাতীয় দিবসে জাবাল হাবসের পুরনো দুর্গে সৌদি প্রশাসনের ইতিহাস

জাবাল হাবসের পুরনো দুর্গ সৌদি আরবের প্রশাসনিক বিকাশের সাক্ষী, যা আজকের আধুনিক الداير অঞ্চলের সূচনা ও উন্নয়নের স্মৃতি ধরে রেখেছে।

আজেল বাংলা1 ঘণ্টা আগে · 2 মিনিট পড়া
জাবাল হাবসের পুরনো দুর্গ ও সৌদি প্রশাসনের ইতিহাস

মূল বিষয়

AI

সৌদি জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাবাল হাবসের পুরনো দুর্গটি الداير জেলার জাজান অঞ্চলে রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস ও প্রশাসনিক বিকাশের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। একসময় এই দুর্গের ছোট ছোট কক্ষ থেকেই স্থানীয়দের নানা প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হতো, আর চিঠিপত্র পৌঁছাতো পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে। পরে সেই সূচনা থেকে আধুনিক الداير গড়ে ওঠে, গ্রামের সঙ্গে সড়ক ও নানা সেবা সংযুক্ত হয় এবং কৃষি ও পর্যটন সম্পদ জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

এই পাথরের দুর্গটি 'আল-আশশা' এলাকায় অবস্থিত এবং এটি ছিল বনি মালিক আমিরাতের প্রথম স্থায়ী ভবন। দুর্গটি পাহাড়ি গ্রামগুলোর মধ্যে প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থানান্তরের ইতিহাস ধারণ করে, যা পরে الداير-এ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সঙ্গে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক সম্প্রসারণ ঘটে।

দুর্গের গঠন ও কার্যাবলি

প্রায় ১২০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পাথরের দুর্গে তিনটি তলা রয়েছে, প্রতিটিতে তিনটি কক্ষ, যা অভ্যন্তরীণ সিঁড়ি দিয়ে সংযুক্ত। কক্ষগুলোতে ছিল শাসনকক্ষ ও দর্শনার্থীদের জন্য জায়গা, আমির ও তাঁর সঙ্গীদের বাসস্থান, অপরাধীদের আটক রাখার স্থান এবং রান্নাঘর। ছাদ ও উঠান ব্যবহার হতো অতিরিক্ত লোকজনের জন্য, বিশেষত স্থানীয়দের বৈঠকের সময়।

স্থানীয় পাথর দিয়ে নির্মিত এই দুর্গের মোটা দেয়াল ও ছোট ছোট জানালা সে সময়কার প্রশাসনিক ভবনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে, যেখানে সীমিত জায়গায় প্রশাসন, আবাসন ও নিরাপত্তা একত্রে ছিল।

প্রশাসন ও সমাজের সংযোগে দুর্গের ভূমিকা

বনি মালিক পাহাড়ের মাঝামাঝি হওয়ায় জাবাল হাবসকে প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, যাতে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্থানীয়দের সেবা দেওয়া যায়। উপজাতি প্রধানরা প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতেন এবং তাদের চাহিদা পৌঁছে দিতেন। ডাক বাহকরা পায়ে হেঁটে জাজানের আঞ্চলিক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, কারণ তখন টেলিগ্রাফ বা আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা ছিল না।

الداير জেলায় প্রশাসনিক বিকাশের ধাপ

আধুনিক বাসস্থানে স্থানান্তরের পরও দুর্গটি টিকে আছে এবং কিছু সংস্কার করা হয়েছে, যাতে এর মূল ঐতিহ্য রক্ষা পায় এবং বনি মালিকে সৌদি প্রশাসনের শুরুর ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে থাকে।

পরে আমিরাত স্থানান্তরিত হয় রাকবা গ্রামে, এরপর ১৩৫৩ হিজরিতে জাবাল খাশারের কাহবা গ্রামে। ১৩৮৯ হিজরিতে الداير-এর ওয়াদি জুরি নদীর তীরে স্থায়ীভাবে প্রশাসনিক কেন্দ্র ও প্রধান সাপ্তাহিক বাজার স্থাপিত হয়। এখান থেকেই الداير শহরের বিকাশ ও সম্প্রসারণ শুরু হয়।

প্রশাসনিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকে এবং ১৪১২ হিজরিতে অঞ্চল ব্যবস্থাপনা আইন জারির পর الداير 'বনি মালিক জেলা' নামে স্বীকৃতি পায়। পরে বর্তমান 'الداير জেলা' নামটি চূড়ান্ত হয়। এভাবেই সীমিত সুযোগ-সুবিধার পাথরের দুর্গ থেকে আধুনিক প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কাঠামোয় রূপান্তর ঘটে, যা জেলার কেন্দ্র ও গ্রামগুলোকে সেবা দিচ্ছে।

মন্তব্য (0)