মসজিদুল হারামের ইমামের দোয়া: সৌদি আরব ও নেতৃত্বের নিরাপত্তা কামনা
মসজিদুল হারামের ইমাম ড. মাহের আল-মুয়াইকিলি মুসলিমদের তাকওয়া, সদ্ব্যবহার ও আন্তরিকতার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সৌদি আরব ও নেতৃত্বের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করেছেন।
মূল বিষয়
AIমসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব ড. মাহের বিন হামাদ আল-মুয়াইকিলি মুসলিমদের আল্লাহভীতির প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন, কথাবার্তা ও কাজে আন্তরিকতা বজায় রাখার এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে সওয়াব ও পুরস্কার লাভের প্রত্যাশা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
আজ জুমার খুতবায় ড. মুয়াইকিলি বলেন, সৎ নিয়তই নেক আমল বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহর কাছে সওয়াবের প্রত্যাশা আমলের মর্যাদা বাড়ায় এবং সাধারণ কাজকেও ইবাদতে পরিণত করে। তিনি আরও বলেন, আখিরাতের পুরস্কার দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখের চেয়ে উত্তম ও স্থায়ী।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করে সওয়াবের দরজা খুলে দিয়েছেন এবং কল্যাণের পথ সহজ করেছেন। একজন মুসলিম আন্তরিক নিয়তের কারণে বহু গুণ বেশি সওয়াব পেতে পারে। সামান্য কাজও আন্তরিকতার কারণে বড় পুরস্কার পায়, আবার বড় কাজও খারাপ নিয়তের কারণে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কেউ অসুস্থতা বা সফরের কারণে নিয়মিত ইবাদত করতে না পারলে, আল্লাহ তার জন্য সেই আমলের সওয়াব লিখে রাখেন।
তিনি বলেন, ইবাদত শুধু বাহ্যিক কাজ—যেমন নামাজ, রোজা—এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুসলিম জীবনের প্রতিটি দিকেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা থাকতে হবে। সাহাবিদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাঁরা তাঁদের দৈনন্দিন কাজকেও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করতেন।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সওয়াবের একটি দিক হলো—নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি এক আনসারির কাহিনি তুলে ধরেন, যিনি নিজের ও পরিবারের চেয়ে নবী (সা.)-এর অতিথিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সওয়াবের দরজা খোলা—পরিবারে খরচ, সদ্ব্যবহার, ভালো কথা বলা এবং পরিবারের কল্যাণে চেষ্টা করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
শেখ মুয়াইকিলি সতর্ক করেন, নেক কাজে সওয়াবের প্রত্যাশা ভুলে যাওয়া এবং মানুষের প্রশংসার প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত নয়। তিনি নিয়ত নতুন করার এবং বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানান যে, আল্লাহ ভালো কাজের সওয়াব নষ্ট করেন না।
বিপদে ধৈর্য ও সওয়াবের প্রত্যাশা
দ্বিতীয় খুতবায় ড. মুয়াইকিলি বিপদের সময় ধৈর্য ও সওয়াবের গুরুত্ব নিয়ে বলেন, একজন মুমিনকে ধৈর্য ধরতে ও আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকতে বলা হয়েছে। মুসলিমের ওপর ক্লান্তি, অসুস্থতা বা দুশ্চিন্তা এলে, ধৈর্য ও সওয়াবের প্রত্যাশা থাকলে তা তার গুনাহ মাফের কারণ হয়।
তিনি বলেন, যাঁরা সংকটে আছেন, তাঁদের উচিত আল্লাহর ওপর ভালো ধারণা রাখা এবং মুক্তির উপায় খোঁজা। তিনি আবারও বলেন, আখিরাতের পুরস্কার দুনিয়ার চেয়ে অনেক উত্তম ও চিরস্থায়ী।
সৌদি আরব ও মুসলিমদের জন্য দোয়া
খুতবার শেষে ড. মুয়াইকিলি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তিনি যেন সৌদি আরব, এর নেতৃত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করেন। তিনি যেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম ও যুবরাজকে সফল করেন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং সীমান্তরক্ষীদের হেফাজত করেন, মুসলিমদের হেদায়েত, তাকওয়া ও ক্ষমা দান করেন।
