মক্কায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজদের প্রতিযোগিতা
মক্কায় চলছে বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার ৪৬তম আসরের চূড়ান্ত পর্ব, যেখানে বিশ্বের নানা দেশের হাফেজরা অংশ নিচ্ছেন।
মূল বিষয়
AIমক্কায় চলছে বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতার ৪৬তম আসরের চূড়ান্ত পর্ব। এতে বিভিন্ন মহাদেশ ও দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন, সবাইকে একত্র করেছে কোরআন শেখা ও তার জ্ঞান অর্জনের প্রতিযোগিতার অনন্য পরিবেশ। সৌদি আরবের ইসলামিক বিষয়ক, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যা এখন মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক অনুষ্ঠান।
প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছেন মাওরিতানিয়ার ইব্রাহিম মোহাম্মদ সাঈদ, যিনি প্রথম শাখায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি জানান, কোরআনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্বেরাতের জ্ঞান অর্জন পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি কোরআন ও তার শিক্ষার্থীদের সেবায় এবং প্রতিযোগিতার আয়োজনে সৌদি নেতৃত্ব ও ইসলামিক মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বেলজিয়াম থেকে এলিয়াস আল-কুরাশি পঞ্চম শাখায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি মক্কায় দাঁড়িয়ে কোরআন পাঠ করতে পারার গর্ব প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই অংশগ্রহণ তার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা ও মনোযোগ ও প্রশান্তির সুযোগ।
বৈচিত্র্যময় গল্প, এক লক্ষ্য
বেলজিয়ামের প্রতিনিধি আইয়ান জানান, চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ তার বহুদিনের স্বপ্নপূরণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার অপেক্ষায় ছিলেন, যা অবশেষে মক্কায় এসে বাস্তবায়িত হয়েছে।
বাংলাদেশের মোহাম্মদ জাকারিয়া চতুর্থ শাখায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, একটি ছোট গ্রাম থেকে কোরআনের বরকতে মক্কায় আসতে পেরেছেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও মসজিদুল হারামে দাঁড়ানো তার জীবনের এক মহান সম্মান ও স্মরণীয় মুহূর্ত।
পঞ্চম শাখায় আর্জেন্টিনার আনিল রোমান ম্যান্ডোল্ডো সবচেয়ে কমবয়সী প্রতিযোগী, মাত্র সাত বছর বয়সে অংশ নিচ্ছেন। তিনি কাবা ঘরের পাশে এই আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে গর্বিত এবং বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার স্মৃতিতে চিরকাল থাকবে।
কোরআন শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মিলনমেলা
প্রতিযোগীদের গল্পে ফুটে উঠেছে কোরআন শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বব্যাপী হাফেজদের একত্রিত করে, মসজিদুল হারামের পবিত্র পরিবেশে তাদের মাঝে সৃষ্টি করে আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ।
এই প্রতিযোগিতা শুধু পুরস্কারের জন্য নয়, বরং অংশগ্রহণকারীদের কোরআনের গুরুত্ব উপলব্ধি ও বিশ্বের নানা দেশের হাফেজদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়। এটি তাদের কোরআন শেখার যাত্রার অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকে।
