মক্কা লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন হামলার চেষ্টা, আরব-ইসলামী বিশ্বে নিন্দার ঝড়
ইয়েমেন থেকে ছোড়া হুথিদের ড্রোন মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনায় আরব ও মুসলিম বিশ্বে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
মূল বিষয়
AIইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মুসলিমদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কার আশপাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া নতুন উত্তেজনার মধ্যে, সৌদি আরব ঘোষণা করেছে—হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর আরব, ইসলামি ও আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। সবাই সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মক্কার দক্ষিণে ড্রোন প্রতিহত
ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী হুথিদের ছোড়া একটি শত্রু ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
মালিকি জানান, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ড্রোনটি দক্ষিণ মক্কা শহরের কাছে ধ্বংস করা হয়।
এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন হুথিদের হামলা বাড়ছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। একইসঙ্গে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে উত্তেজনা বেড়েছে।
উত্তেজনা বাড়ার ব্যাপারে সৌদির সতর্কতা
মক্কা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টার মধ্যেই, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সৌদি আরব হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলার ব্যাপকতা ও এর আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক নিরাপত্তিতে প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছে।
জাতিসংঘে সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুলআজিজ আল-ওয়াসিল নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে বলেন, জাহাজ ও নৌপথে হামলা শুধু একটি দেশকে নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি বলেন, এর অর্থনৈতিক প্রভাব কেবল এই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
আল-ওয়াসিল জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরব তার জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এই অধিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইয়েমেনে স্থিতিশীলতা ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান জরুরি।
আরব ও ইসলামি বিশ্বে নিন্দা
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) মক্কা ও মদিনা লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, পবিত্র স্থান ও মসজিদ লক্ষ্যবস্তু করা তাদের মর্যাদাহানিকর এবং বিশ্ব মুসলিমের অনুভূতিতে আঘাত।
ওআইসি সৌদি আরবের পাশে থাকার এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তায় গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংস্থাটি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে। তারা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও দুই পবিত্র মসজিদের সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একইভাবে মক্কা লক্ষ্য করে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং মক্কার মর্যাদা ও পবিত্রতার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছে। জর্ডান সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার সংহতি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মক্কার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তায় পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, মক্কার নিরাপত্তা ও পবিত্রতা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সৌদি আরবের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ ও পবিত্র স্থানগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলবে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
হুথি ও ইরানকে দায়ী করল ইয়েমেন সরকার
ইয়েমেন সরকার সৌদি আরবের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তায় সৌদি আরবের অধিকারকে সমর্থন করেছে।
তারা হুথি বিদ্রোহী ও তাদের মিত্র ইরানকে—যারা হুথিদের সমর্থন দেয় বলে অভিযোগ—সৌদি আরবে হামলার জন্য দায়ী করেছে। একইসঙ্গে, আরব, ইসলামি ও আন্তর্জাতিক মহলকে হুথিদের ওপর কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং তাদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
