মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন যুবরাজ, ১১টি সিদ্ধান্ত
রিয়াদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, যেখানে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূল বিষয়
AIরিয়াদে আজ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।
বৈঠকের শুরুতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সুদানের অন্তর্বর্তীকালীন সার্বভৌম পরিষদের প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্সি দপ্তরের প্রধান শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও জানান। এসব আলোচনায় সৌদি আরব ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী সালমান বিন ইউসুফ আল-দোসারি সৌদি প্রেস এজেন্সিকে জানান, মন্ত্রিসভা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহে সৌদি আরবের অংশগ্রহণের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও অবদান আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, সংলাপ ও কূটনীতির প্রসার এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রিসভা জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচিতে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এতে সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় কেন্দ্রটির ভূমিকা, সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সাধারণ সচিবালয় গঠনে অগ্রগতির প্রশংসা করে মন্ত্রিসভা। এছাড়া সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বৈঠকে সামরিক সহযোগিতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করে মন্ত্রিসভা। তারা ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যাহতকারী হুথি মিলিশিয়াদের সৌদি আরব ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিকে স্বাগত জানায়।
হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর ও আদেন উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রিসভা। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা, কোনো বাড়তি ফি বা বিধিনিষেধ আরোপ না করা এবং এসব জলপথকে কোনো দেশের স্বার্থে চাপ বা হুমকি হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়।
ইসরায়েলি দখলদার প্রশাসন ও চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা আল-আকসা মসজিদের অবমাননা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানায় মন্ত্রিসভা। তারা আবারও দুই-রাষ্ট্র সমাধান ও ১৯৬৭ সালের সীমান্তে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেয়।
দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা। সৌদি শিক্ষার মান ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন ও উদ্ভাবন সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রাখার জন্য প্রশংসা করা হয়। এসব উদ্যোগ সৌদি ভিশন 2030-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল শুরা পরিষদের সুপারিশ, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরিষদ, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ক পরিষদ, মন্ত্রিসভার সাধারণ কমিটি এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ। এসব আলোচনার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভা ১১টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে:
প্রথমত:
সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক ও বিশেষ পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ছাড়ের চুক্তি অনুমোদন।
দ্বিতীয়ত:
সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা ও স্বাক্ষরের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রীকে অনুমতি।
তৃতীয়ত:
সৌদি আরব ও জিবুতির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা ও স্বাক্ষরের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুমতি।
চতুর্থত:
সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ ও সিরিয়ার কেন্দ্রীয় তদারকি ও পরিদর্শন কর্তৃপক্ষের মধ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সমঝোতা স্মারক অনুমোদন।
পঞ্চমত:
সর্বোচ্চ বিচার পরিষদ, প্রশাসনিক বিচার পরিষদ, পাবলিক প্রসিকিউশন কাউন্সিল এবং দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও অভিযোগ কাউন্সিলের সদস্যদের মেয়াদ উত্তরসূরি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন।
ষষ্ঠত:
সরকারি সংস্থার রূপান্তর সংক্রান্ত কর্মচারী ও শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনুরোধ যাচাইয়ের নীতিমালা অনুমোদন।
সপ্তমত:
ওয়াকফ আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মসজিদ ও এর সুবিধাসমূহকে সরকারি স্থাপনা সুরক্ষা আইনের আওতায় আনা।
অষ্টমত:
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিষিদ্ধ ও সীমিত পণ্য এবং বিশেষ ধরনের পণ্যের তালিকা অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রী ও জাকাত, ট্যাক্স ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রধানকে অনুমতি।
নবমত:
কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুমোদন।
দশমত:
মন্ত্রিসভার আলোচ্যসূচিতে থাকা বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ, যার মধ্যে রয়েছে ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ, সৌদি রেড সি অথরিটি, জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কৌশলগত অফিস সহায়তা কেন্দ্র এবং কিং আবদুলআজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন।
একাদশত:
পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৪তম গ্রেডে অফিস ব্যবস্থাপক হিসেবে তালাল বিন আবদুল্লাহ আল-ঘামদি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে ১৪তম গ্রেডে আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে আবদেলইলাহ বিন খুশমান আল-আবসিকে পদোন্নতি দেওয়ার অনুমোদন।
