মূল বিষয়বস্তুতে যান
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

মানবিক সহায়তায় সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় গুরুত্বারোপ

ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ জাতিসংঘে সৌদি আরবের মানবিক নেতৃত্ব ও মানবিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আজেল বাংলা58 মিনিট আগে · 2 মিনিট পড়া
ড. রাবিয়াহ জাতিসংঘে মানবিক সহায়তা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন

মূল বিষয়

AI

আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে "আন্তর্জাতিক মানবিক আইন রক্ষায় মানবিক কূটনীতি" শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন সৌদি বাদশাহর উপদেষ্টা ও কিং সালমান মানবিক সহায়তা কেন্দ্রের প্রধান ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ আল-রাবিয়াহ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন, আয়ারল্যান্ড, ব্রাজিল ও জর্ডান এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল। এতে উপস্থিত ছিলেন বেলজিয়ামের রানি মাতিল্ড।

ড. রাবিয়াহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই অধিবেশনে জরুরি মানবিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সম্মিলিত কার্যকর সাড়া গঠনে এসবের ভূমিকা অপরিসীম।

তিনি জানান, সৌদি আরব মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশটি ১৭৫টি দেশে ৯,০০০-এর বেশি প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে, যার মোট ব্যয় ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এতে সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মানবিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব

ড. রাবিয়াহ আরও বলেন, মানবিক কূটনীতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও নীতিনিষ্ঠ মানবিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি। এটি উত্তেজনা রোধ, সংলাপ বাড়ানো এবং নিরাপদ ও টেকসই মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। পাশাপাশি, মানবিক সহায়তার অপব্যবহার রোধ ও সংঘাত আরও বাড়িয়ে তোলার মতো কর্মকাণ্ডে সহায়তা না করার বিষয়েও গুরুত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, মানবিক কূটনীতি নিরপেক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে সমন্বিত হতে হবে। বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষায়, মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিমালা মানতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মানবিক সহায়তায় কিং সালমান কেন্দ্রের ভূমিকা

এ প্রসঙ্গে ড. রাবিয়াহ জানান, কিং সালমান মানবিক সহায়তা কেন্দ্র জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। এতে উদ্ভাবন ও মানবিক ফলাফল উন্নত হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রটি ৩৪টি দেশে ১১২টি স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে ৫৮৬টি প্রকল্পে ৭৭৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে কাজ করেছে এবং ২৬২টি নিবন্ধিত অংশীদার রয়েছে, যারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে।

তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও সমন্বিত কর্মসূচি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন এবং টেকসই, তথ্যভিত্তিক সাড়া নিশ্চিত করতে সহায়ক। টেকসই ও পরিমাপযোগ্য অগ্রগতি আনতে কৌশলগত পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বেসামরিক সুরক্ষা ও নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান

ড. রাবিয়াহ সংঘাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন এবং বেসামরিকদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন নতুনভাবে সাজানোর আহ্বান জানান। তিনি জাতিসংঘের "মানবিক পরিস্থিতি পুনর্গঠন" এজেন্ডার প্রশংসা করেন এবং বলেন, সংস্কার কার্যক্রমে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় সংস্থার ভূমিকা বাড়ানো জরুরি।

শেষে ড. রাবিয়াহ বলেন, মানবিক কূটনীতি নীতিমালা ও বাস্তবতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবার যৌথ দায়িত্ব, যার জন্য অব্যাহত সংলাপ, কার্যকর অংশীদারিত্ব ও বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।

মন্তব্য (0)