সৌদি আরবে জাতীয় মেধা অলিম্পিয়াডে ৪ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থীর নিবন্ধন
মেধা অলিম্পিয়াডে সৌদি আরবের ১০,৯৩২টি স্কুলের ৪ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে, যা দেশের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতা।
মূল বিষয়
AIবাদশাহ আবদুলআজিজ মেধা ও সৃজনশীলতা ফাউন্ডেশন ‘মাওহিবা’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো জাতীয় মেধা অলিম্পিয়াডের নিবন্ধন পর্ব শেষ হয়েছে। এটি দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতা।
‘মাওহিবা’ জানিয়েছে, এবার ১০,৯৩২টি স্কুল থেকে মোট ৪৪৪,১৩৪ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ১,০০,০৯৫ জন ‘নাসমু’ বৈজ্ঞানিক শাখায় এবং ৩,৪৪,০৩৯ জন ‘ইবদা’ গবেষণা শাখায় অংশ নিয়েছে। বিপুল এই অংশগ্রহণ জাতীয় পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও অলিম্পিয়াডের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
মেধা অন্বেষণ ও বিকাশের পূর্ণাঙ্গ যাত্রা
‘মাওহিবা’র মহাসচিব আবদুলআজিজ আল-কুরাইদিস বলেন, জাতীয় মেধা অলিম্পিয়াড হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানভিত্তিক যাত্রা, যা দেশের ছেলে-মেয়েদের মেধা ও সৃজনশীলতা অন্বেষণ ও বিকাশে বিনিয়োগ করে। এর লক্ষ্য হচ্ছে তাদের বৈজ্ঞানিক ও সৃজনশীল দক্ষতা বাড়িয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা এবং সৌদি ভিশন ২০৩০ অর্জনে ভূমিকা রাখা।
কুরাইদিস আরও বলেন, অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীরা দুটি শাখায়—বিজ্ঞান ও গণিত এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন—নিজেদের দক্ষতা যাচাই ও বিকাশের সুযোগ পায়। বিপুল অংশগ্রহণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এই বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ার প্রমাণ।
শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়নে কৌশলগত অংশীদারিত্ব
কুরাইদিস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সহযোগিতার ফলে উদ্দীপনামূলক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেধা অন্বেষণ ও লালনের সুযোগ পৌঁছে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ছে এবং তারা আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক আসরে সৌদি আরবকে প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
অলিম্পিয়াডের লক্ষ্য ও ধাপসমূহ
জাতীয় মেধা অলিম্পিয়াডের লক্ষ্য হচ্ছে বৈজ্ঞানিক মেধা ও দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা, উচ্চতর চিন্তাশক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা। শিক্ষার্থীদের দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জের সমাধানে কাজে লাগানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
নিবন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা এখন বাছাইপর্বে যাবে, যেখানে ‘নাসমু’ ও ‘ইবদা’—দুই শাখায় ধাপে ধাপে তাদের দক্ষতা যাচাই ও বিকাশ ঘটবে। এরপর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ও প্রদর্শনী এবং সর্বশেষে অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় মেধা অলিম্পিয়াড হলো ‘ইবদা’ বৈজ্ঞানিক সৃজনশীলতা অলিম্পিয়াড এবং ‘নাসমু’ বিজ্ঞান ও গণিত অলিম্পিয়াডকে একত্রিত করে গঠিত একটি প্রতিযোগিতা, যা দেশে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণাভিত্তিক মেধা অন্বেষণ, বিকাশ ও প্রস্তুতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
