মূল বিষয়বস্তুতে যান
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ · রিয়াদ
العربيةEnglishনিউজলেটারযোগাযোগ
সৌদি আরব

উচ্চশিক্ষা তহবিলের নতুন সংগঠন অনুমোদন, সরকারি গেজেটে প্রকাশ

সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষা তহবিলের নতুন সংগঠন অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সরকারি গেজেটে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়েছে, যা পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল সংগঠনের স্থলাভিষিক্ত হবে।

আজেল বাংলা48 মিনিট আগে · 5 মিনিট পড়া
উচ্চশিক্ষা তহবিলের সংগঠন সংক্রান্ত সরকারি গেজেট

মূল বিষয়

AI

সরকারি গেজেটে সৌদি মন্ত্রিসভার ৩৫৮ নম্বর ও ১৪৪৮/৪/২৫ হিজরি তারিখের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়েছে, যাতে উচ্চশিক্ষা তহবিলের নতুন সংগঠন অনুমোদন করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে, মন্ত্রিসভার ২১৬ নম্বর ও ১৪২১/৯/৮ হিজরি তারিখের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা তহবিল সংগঠন বাতিল হবে।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, নতুন তহবিলের লক্ষ্য হচ্ছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের উৎস বৈচিত্র্যকরণ ও উন্নয়ন, স্ব-আয় বৃদ্ধি, সম্পদ ও অর্থ বিনিয়োগ, এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে সহায়তা ও উন্নয়ন। এসব কার্যক্রম সংগঠনের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত ও তাদের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়াবে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা তহবিলের পরিচালনা পর্ষদ সংগঠনের ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদের ১৩ নম্বর উপধারার অধীনে তাদের ক্ষমতা জাতীয় ফি ও আর্থিক আদায় কাঠামোর আওতায় ব্যবহার করবে, যা মন্ত্রিসভার ৬১১ নম্বর ও ১৪৪৭/৮/২২ হিজরি তারিখের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত।
সংগঠনের বিস্তারিত নিম্নরূপ:

প্রথম অনুচ্ছেদ:
এই সংগঠনে ব্যবহৃত শব্দ ও বাক্যাংশের অর্থ নিম্নরূপ:
১- তহবিল: উচ্চশিক্ষা তহবিল।
২- সংগঠন: তহবিলের সংগঠন।
৩- মন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী।
৪- পর্ষদ: তহবিলের পরিচালনা পর্ষদ।
৫- সভাপতি: পর্ষদের সভাপতি।
৬- প্রধান নির্বাহী: তহবিলের প্রধান নির্বাহী।
৭- উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ, যেগুলো আইন অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষা দিতে পারে।


দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ:
তহবিল একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা ও আর্থিক-প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। এটি সংগঠনগতভাবে শিক্ষামন্ত্রীর অধীনে থাকবে এবং প্রধান কার্যালয় হবে রিয়াদে। প্রয়োজনে দেশের ভেতরে শাখা বা অফিস স্থাপন করতে পারবে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ:
তহবিলের লক্ষ্য হচ্ছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের উৎস বৈচিত্র্যকরণ ও উন্নয়ন, স্ব-আয় বৃদ্ধি, সম্পদ ও অর্থ বিনিয়োগ, এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে সহায়তা ও উন্নয়ন। এসব কার্যক্রম সংগঠনের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত ও তাদের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়াবে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ:
অন্যান্য সরকারি সংস্থার ক্ষমতা ক্ষুণ্ন না করে, তহবিলের লক্ষ্য অর্জনে যেসব ক্ষমতা প্রয়োজন, তার মধ্যে রয়েছে:
১- তহবিলের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও প্রকল্প প্রণয়ন।
২- উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী প্রকল্প, কর্মসূচি ও উদ্যোগ গ্রহণ বা তাতে অংশগ্রহণ।
৩- উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ, সম্পদ ও অর্থ ব্যবস্থাপনা, তাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে।
৪- এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে যৌথভাবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা পরিচালনা, তাদের সম্মতিতে।
৫- শিক্ষার্থীদের বৃত্তি সংক্রান্ত অর্থ সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা থেকে অর্জিত অর্থ বিনিয়োগ।
৬- সকল ধরনের বিনিয়োগ, যার মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজার, সম্পত্তি ও স্থাবর সম্পদ কেনাবেচা বা বন্ধক রাখা, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী।
৭- পরিষেবা ও কার্যক্রমের জন্য পর্ষদ নির্ধারিত আর্থিক ফি আদায়।
৮- দেশের ভেতরে এককভাবে বা যৌথভাবে কোম্পানি ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠন, অংশীদারি ও শেয়ার/অংশ ক্রয়, প্রযোজ্য নিয়মে।
৯- তহবিলের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, প্রযোজ্য নিয়মে।
১০- তহবিলের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সম্মেলন, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন বা অংশগ্রহণ, দেশে ও বিদেশে, প্রযোজ্য নিয়মে।
১১- তহবিলের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সৌদি আরবকে প্রতিনিধিত্ব, প্রযোজ্য নিয়মে।
১২- গবেষণা ও অধ্যয়নে সহায়তা ও পরিচালনা, এককভাবে বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।
১৩- আর্থিক, অর্থনৈতিক, কারিগরি ও প্রশিক্ষণ পরামর্শ ও সেবা প্রদান।
১৪- দেশের শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা, কার্যক্রম ও উদ্যোগে সহায়তা ও অর্থায়ন।
১৫- পর্ষদ অনুমোদিত যেকোনো কার্যক্রম, যা তহবিলের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ:
১- তহবিলের পরিচালনা পর্ষদ থাকবে, যার সভাপতি হবেন শিক্ষামন্ত্রী। সদস্যরা হলেন:
ক- বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক কাউন্সিলের মহাসচিব
খ- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি
গ- অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি
ঘ- কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধি
ঙ- তিনজন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি
চ- সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ দুইজন সদস্য
ছ- প্রধান নির্বাহী
২- (ঙ) ও (চ) দফার সদস্যদের নিয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর আদেশে, সভাপতির সুপারিশে। তাদের মেয়াদ তিন বছর, একবার পুনর্নিয়োগযোগ্য।
৩- সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পদমর্যাদা কমপক্ষে ১৩তম গ্রেড বা সমমানের হতে হবে।
৪- সভাপতি (ক), (খ), (গ), (ঘ) দফার সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে উপ-সভাপতি মনোনীত করবেন।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ:
পর্ষদ তহবিলের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার ওপর নজরদারি করবে এবং সংগঠনের আওতায় লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত নেবে। এর মধ্যে রয়েছে:
১- তহবিলের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও প্রকল্প অনুমোদন।
২- উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের জন্য ব্যয় সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন।
৩- তহবিলের তত্ত্বাবধানে থাকা ওয়াকফ গ্রহণ, প্রযোজ্য নিয়মে।
৪- তহবিলের সাংগঠনিক কাঠামো ও নির্দেশিকা অনুমোদন।
৫- আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধিমালা অনুমোদন, যার মধ্যে আর্থিক বিধিমালা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এবং প্রশাসনিক বিধিমালা মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে।
৬- তহবিলের চূড়ান্ত হিসাব ও বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন।
৭- বার্ষিক বাজেট অনুমোদন।
৮- তহবিলের অর্থ বিনিয়োগে অনুমোদন, প্রযোজ্য নিয়মে।
৯- সম্পদ ও স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা বা বন্ধক অনুমোদন, প্রযোজ্য নিয়মে।
১০- উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুমোদন।
১১- দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারি অনুমোদন, প্রযোজ্য নিয়মে।
১২- কোম্পানি ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠন ও অংশীদারি অনুমোদন, প্রযোজ্য নিয়মে।
১৩- পরিষেবা ও কার্যক্রমের জন্য আর্থিক ফি নির্ধারণে অনুমোদন।
১৪- বাহ্যিক নিরীক্ষক ও অভ্যন্তরীণ আর্থিক পরিদর্শক নিয়োগ।
১৫- নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুমোদন।
১৬- তহবিলের কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
১৭- চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক অনুমোদন, প্রযোজ্য নিয়মে।
১৮- অনুদান, দান, দাতব্য ও ওয়াকফ আয় গ্রহণ, প্রযোজ্য নিয়মে।
১৯- দেশের ভেতরে শাখা বা অফিস স্থাপনের অনুমোদন।
২০- স্থায়ী বা অস্থায়ী কমিটি গঠন, সদস্য ও কার্যাবলি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ।
পর্ষদ চাইলে (১১), (১৭) ও (১৮) নম্বর ক্ষমতা সভাপতি, সদস্য বা কর্মীকে অর্পণ করতে পারবে।

সপ্তম অনুচ্ছেদ:
১- পর্ষদ সভা সংক্রান্ত নীতিমালা:
ক- পর্ষদ বছরে অন্তত তিনবার সভা করবে, সভাপতি বা উপ-সভাপতির ডাকে বা এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুরোধে। সভার ন্যূনতম সাত দিন আগে লিখিত নোটিশ ও এজেন্ডা পাঠাতে হবে।
খ- সভা তহবিলের প্রধান কার্যালয়ে হবে, তবে সভাপতি বা উপ-সভাপতির সিদ্ধান্তে অন্যত্রও হতে পারে।
গ- সভার বৈধতার জন্য সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ উপস্থিতি ও সভাপতি/উপ-সভাপতির উপস্থিতি আবশ্যক।
সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে। ভোট সমান হলে সভাপতির ভোটই চূড়ান্ত হবে।
ঘ- পর্ষদ চাইলে বিশেষজ্ঞদের সভায় আমন্ত্রণ জানাতে পারবে, তবে তারা ভোট দিতে পারবেন না।
ঙ- কোনো সদস্য ভোট থেকে বিরত থাকতে বা অন্য সদস্যকে ভোটের অধিকার দিতে পারবেন না।
চ- সভার কার্যবিবরণী আরবি ভাষায় লিপিবদ্ধ ও উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরিত হবে। কোনো সদস্য চাইলে তার আপত্তি ও কারণ রেকর্ডে রাখতে পারবেন।
ছ- পর্ষদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল সভা ও অনলাইন ভোটিং করতে পারবে।
জ- পর্ষদের একজন সচিব থাকবে, যিনি সভাপতি নিয়োগ করবেন।

মন্তব্য (0)